img

‘নৌকা’ উপহার নিয়ে বিপাকে উপদেষ্টা, কী করবেন জানতে চাইলেন ফেসবুকে

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ০২ নভেম্বর ২০২৫

‘নৌকা’ উপহার নিয়ে বিপাকে উপদেষ্টা, কী করবেন জানতে চাইলেন ফেসবুকে

ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেল ওহাব সালদানি আলজেরিয়া বিপ্লবের ৭১তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে নৌকা উপহার দিয়েছেন । এ ঘটনার পর শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

যদিও পরে ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি খোলাসা করেছেন উপদেষ্টা নিজেই। একইসঙ্গে এ উপহার নিয়ে কী করবেন, তা জানতে চেয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, গত সন্ধ্যায় আলজেরিয়ার জাতীয় দিবসে, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মনোনয়নক্রমে, প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিই। অনুষ্ঠানে আমাকে পালতোলা দাঁড় পরিচালনাকারী মাঝিসহ নৌকার প্রতিকৃতি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কূটনৈতিক সৌজন্য বশত: আমি তা গ্রহণ করি। উপহারটিতে দূতাবাসের নাম লিখিত আছে। লক্ষ্য করুন, এটার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীকের কোন মিল নাই।

পরামর্শ চেয়ে তিনি আরও লেখেন, এখন আমি এটি আলজেরিয় দূতাবাসে ফেরত পাঠাতে পারি। এটা অসৌজন্যমূলক ও হীনমন্যতা প্রসূত হবে; সরকারি তোশাখানায় জমা দিতে পারি। যদিও এটা খুব মূল্যবান কিছু নয়; শৈলান প্রবীণ নিবাসে রাখতে পারি; অথবা নিজে রেখে দিতে পারি।

তিনি শেষে লেখেন, পাঠকের পরামর্শ পেলে উপকৃত হব।

গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেল ঢাকার আলজেরিয়া দূতাবাস ১৯৫৪ সালের গৌরবময় বিপ্লবের ৭১তম বার্ষিকী উদযাপন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন নেই।

আফ্রিকাকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিনটি কৌশলের কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।

বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এআইভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান খলিলুর রহমান।

জাতীয় এর আরও খবর