img

ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হলো রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনকে

প্রকাশিত :  ০৫:০৪, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৩৪, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হলো রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনকে

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে হাজির করা হয়। 

এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করবেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলার প্রধান আসামি হলেন— ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক এই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক এবং তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন।

সেদিন ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, ‘১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে সেটা (রায় ঘোষণা) হবে খুব তাড়াতাড়ি।’ সেই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল আজ ১৭ নভেম্বর (সোমবার) রায়ের দিন ধার্য করেন।

রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের কাছে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চাওয়া হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন তাদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন। 

এদিকে, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমিত করা হয়েছে জনসাধারণের চলাচলও।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া

প্রকাশিত :  ১০:১২, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এবার লঞ্চের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

সচিবালয়ে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সড়ক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধিসহ সবকিছু বিবেচনায় নৌযান মালিকরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া আগে ৩২ টাকা ছিল। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি আমাদের কাম্য না। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এজন্য জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই আমরা সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভাড়া বৃদ্ধির নামে নৈরাজ্য কিংবা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কাউকে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ দিইনি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। তারা একজন যাত্রীর যাতায়াতে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তারা প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে চার টাকা দুই পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যথায় জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। 

এর আগে দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাসের ভাড়া দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরে কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা করে বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ৩ পয়সা ভাড়া কম নিতে বলা হয়েছে। সে হিসেবে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১৭ পয়সা হয়। 

গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার বাড়ানোর আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আর মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা।

অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বাড়ে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন–এসি বাসের আসন কমিয়ে ৪০ বা এর চেয়ে কমে নামিয়ে আরমাদায়ক করা হয়েছে। সেগুলোতে ভাড়া আরও বেশি। এ ছাড়া যুক্ত হতো সেতু ও সড়কের টোল। এবার নতুন করে ১৭ পয়সা বাড়ার কারণে নতুন করে নির্ধারিত হবে বাস ভাড়া।

জাতীয় এর আরও খবর