img

তফসিলের পর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে অনুমোদনহীন আন্দোলন

প্রকাশিত :  ১১:০৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

তফসিলের পর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে অনুমোদনহীন আন্দোলন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ এবং আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে দেশের সকলকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যেকোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এতে আরও বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়— বর্তমানে এটিই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেইদিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জানি, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংগঠিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সবসময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে, সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এসময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

--

জাতীয় এর আরও খবর

২০১৮ সালের নির্বাচন

img

বাধ্যতামূলক অবসরে সাবেক ৩২ ডিসি

প্রকাশিত :  ১৬:৪০, ২৭ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অবসরে পাঠানো এসব কর্মকর্তা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই ৩২ কর্মকর্তার সরকারি চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাঁদের চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সরকার চাইলে কোনো প্রকার কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলেও বিধি মোতাবেক এসব কর্মকর্তা তাঁদের প্রাপ্য সব ধরনের অবসরজনিত আর্থিক সুবিধা পাবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি বিভিন্ন মহলে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত। ওই নির্বাচনের সময় এই ৩২ জন কর্মকর্তা মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পদাধিকার বলে তাঁরাই নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।