img

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি, জনবল নেয়া ও পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় ‘‌ওয়ার্ল্ড ডিফেন্স শো’-তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণপত্রসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম দেশ। সৌদি আরব শুধু ইসলাম ধর্মের পবিত্র ভূমি হিসেবে নয়, প্রবাসী কর্মীদের দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবেও বাংলাদেশীদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। দেশের অর্থনীতিতে সৌদি প্রবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় উপদেষ্টা বাংলাদেশ থেকে আরো জনবল নিতে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করেন।

রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদানের অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। তবে মিশনে আসা আবেদনের তুলনায় পাসপোর্ট এনরোলমেন্টে উপস্থিতি কম। তিনি জানান, সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্টারকে এ বিষয়ে এরইমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বে থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনের জন্য প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত উপদেষ্টাকে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ‘‌ওয়ার্ল্ড ডিফেন্স শো’-তে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং এ সংক্রান্ত সৌদি ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার হাতে তুলে দেন।

জবাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ ইভেন্টে অংশ নেয়ার ব্যাপারে উপদেষ্টা অপারগতা প্রকাশ করেন এবং উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠাবেন বলে জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফয়সল আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব মু. জসীম উদ্দিন খান উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।

নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন নেই।

আফ্রিকাকে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন।

নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতিও সমর্থন জানান তিনি।

বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিনটি কৌশলের কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।

বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

এ সময় বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এআইভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির আহ্বান জানান খলিলুর রহমান।

জাতীয় এর আরও খবর