img

সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৫, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
অভিবাসন ভিসা স্থগিতের পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানাল দেশটি সর্বোচ্চ ৩ মাসের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে। আজ সোমবার ( ২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে এ সংক্রান্ত এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।  
এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গেল ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকাতেও যুক্ত করেছে দেশটি।  

‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে এ সংক্রান্ত বার্তায় আজ ঢাকার মা‌র্কিন দূতাবাস জানিয়েছে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে। তথ্যগুলো হলো—   

 • মা‌র্কিন যুক্তরা‌ষ্ট্রের ভিসার জন‌্য অনু‌মো‌দিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে।

• ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য হলে কনসুলার কর্মকর্তা আপনাকে pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবে।

 • ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে। 

• সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে।

• নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।

• দেশে ফিরে আসার পর ভিসার সব শর্ত পূরণ হলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে (শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা)।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বাড়তি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। মূলত যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফিরে না আসার হার বেশি, সেসব দেশকেই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক
ভিসা বন্ড প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ এখন বাংলাদেশিরা কেবল এই তিন বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। বিমানবন্দর তিনটি হলো— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)। 

এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় আছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডা। তালিকার দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে। 

ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এমন জামানত বা নিশ্চয়তা নিয়ে থাকে; যেন তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলেন।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে অস্থায়ী নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

কোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকলে সেটি ভিসা ওভারস্টে বলে গণ্য হয়।

বেশির ভাগ দেশই ভিসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ চায়। কিন্তু ফেরতযোগ্য জামানত দিয়ে দেশে প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা চালু করেনি। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালু করেছিল, পরে তা আর কার্যকর হয়নি। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
img

পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতে রাজি ইরান, দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ১৯:১১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ফ্রোজেন ফান্ড বা আটকে থাকা অর্থও ইরান পাবে না।

\r\n

এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদসংস্থা ব্লুমবার্গ

ব্লুম্বার্গ-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে যে সংঘাত শুরু করেছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই এই চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর ও বহাল থাকবে এবং তা চলবে যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পূর্ণ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কিছু শর্ত সাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর