img

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর

প্রকাশিত :  ০৫:৫৫, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। দেশটি ওমান–সংলগ্ন এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজগুলোকে কোনো হামলার ঝুঁকি ছাড়াই অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নিয়েছে ইরান

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হয় তাহলে এই ছাড় দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে সবচেয়ে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে শত শত ট্যাঙ্কার ও অন্যান্য জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরের ভেতরে আটকে পড়েছে। এরপর গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

তেহরান-ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইরান প্রণালির ওমান-নিয়ন্ত্রিত পাশ দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলতে দিতে প্রস্তুত হতে পারে। তবে সূত্রটি জানায়নি, ইরান ওই অংশে যদি কোনো মাইন বসিয়ে থাকে, তা সরাতে রাজি হবে কি না কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোকেও অবাধ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।

সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইরানের দাবি পূরণে কতটা রাজি হয় তার ওপর নির্ভর করছে। এটি যে কোনো সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রে মূল শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্যের জন্য তখনো সাড়া দেয়নি।

একটি পশ্চিমা নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার এই ধারণাটি আগেই আলোচনায় ছিল, তবে ওয়াশিংটন এর জবাবে কী অবস্থান নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালি মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সরু জলপথ। এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে জ্বালানি ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের প্রধান পরিবহন পথ।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

প্রকাশিত :  ১১:৩৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীতিহীন বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর ইসরায়েলি সেনাদের বর্বরোচিত নির্যাতনের দৃশ্য দেখার পর তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। 

আলবানিজ তার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সৈন্যদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং তারা পদ্ধতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ‘জাতিগত নিধন’ চালানো হচ্ছে বলে আলবানিজ ইতিপূর্বে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উসকানিমূলক প্রচারণা শুরু হয়। এমনকি এই প্রতিবেদনের জেরে তিনি বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন। 

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তার জীবন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং তিনি সবসময় এক ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আলবানিজ তার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘রোলার কোস্টার রাইডের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত মনে করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং পুরো বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজগুলো সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি নিন্দার ঝড় উঠেছে।

আলবানিজ বারবার দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইসরায়েলি বাহিনীর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তার জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নির্মম বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রানচেসকা আলবানিজের এই মন্তব্য ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নৈতিক অবস্থানকে বৈশ্বিক মঞ্চে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির এমন সাহসী অবস্থান ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। 

যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে একের পর এক ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনগুলো সত্যতার সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আলবানিজ জানিয়েছেন, প্রাণনাশের হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য প্রকাশে পিছপা হবেন না এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের দাবিতে তার লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর