আইআরজিসি’র ঘোষণ

img

যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে

প্রকাশিত :  ০৫:২১, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪০, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ না তোলা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তোলা না পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসি’র ।

গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, “হরমুজের দিকে জাহাজ নিয়ে আসলে এটিকে শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করবে সেগুলোতে হামলা চালানো হবে।”

গত শুক্রবার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শনিবার আবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দেয় তেহরান। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার বিশ্বাস ভঙ্গ করায় তারা এ ব্যবস্থা নিয়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে এই ঘোষণা দিয়ে বিপ্লবী গার্ড বলেছে, “যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে মার্কিন শত্রুরা ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়নি। তাই আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে এই অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।”

পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরে নোঙরকৃত জাহাজগগুলোকে সতর্কতামূলক বার্তা পাঠিয়েছে বিপ্লবী গার্ড। তারা বলেছে, নোঙর করা স্থান থেকে কোনো জাহাজ যেন না নড়ে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বাঘের ঘালিবাফ মার্কিনিদের অবরোধকে বিবেচনাহীন এবং অজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেছেন, “ইরানের জাহাজ হরমুজ পার হতে না পারলে অন্যদের জাহাজ পার হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব।”

সূত্র: সিএনএন


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের কোনো প্রতিনিধি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬

‘মঙ্গলবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে চুক্তি হবে’— নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এমন দাবি করলেও ইরান এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি দল পাঠায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ইরনা নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।

ইরনা জানিয়েছে, “এখন পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে যায়নি। কোনো উচ্চ পর্যায়ের, মাঝারি পর্যায়ের কিংবা পূর্ববর্তী বৈঠকের কোনো ফলোআপ দল সেখানে যায়নি।”

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ইরানের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদে রওনা হওয়া, পৌঁছানো বা সম্ভাব্য আগমনের তারিখ সংক্রান্ত যেসব খবর প্রকাশ হয়েছে, সেসবকে ‘গুজব’ বলে দাবি করা হয়েছে ইরনার পোস্টে।

সেই সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ইস্যুতে নিজেদের পুরোনো অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। বলা হয়েছে, ইরান কোনো চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করবে না।

গত ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছিল পাকিস্তান। সেই সংলাপের জন্য নির্ধারিত দিন ছিল ২২ এপ্রিল।

কিন্তু প্রথম দফা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা দ্বিতীয় দফা সংলাপের সম্ভাবনাকে অনেকটাই ফিকে করে দেয়।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ট্রাম্পকে হরমুজ ও ইরানি বন্দর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, এই অবরোধ সংলাপের পথে অন্তরায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের পরামর্শ তিনি বিবেচনা করবেন।

এদিকে গতকাল এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার গভীর অনাস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগঠনমূলক’ মনোভাবকে সংলাপের একটি বড় বাধা বলে উল্লেখ করেছেন।

এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “একটি অর্থপূর্ণ সংলাপের ভিত্তি হলো প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান গভীরভাবে আস্থার সংকটে ভোগে এবং এই সংকট ঐতিহাসিক। সেই সঙ্গে মার্কিন অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত তিক্ত বার্তা দেয়।”

সূত্র : বিবিসি