img

আমার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৫:১৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

আমার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন : ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দেশটির সঙ্গে শিগগিরই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল লিখেছেন, ‌‌‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ‌‌চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তবে তিনি এখনও বিশ্বাস করেন একটি শান্তি চুক্তি সম্ভব।’’

কার্ল বলেন, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে বলেছেন, এই চুক্তি হবেই। যেভাবেই হোক—সহজভাবে হোক বা কঠিনভাবে। এটি হতে যাচ্ছে। আপনি আমার উদ্ধৃতি দিতে পারেন।’’

আর ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমার প্রতিনিধিরা আলোচনার জন্য পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। তারা আগামীকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় সেখানে পৌঁছাবেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা অত্যন্ত ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত একটি প্রস্তাব দিচ্ছি এবং আমি আশা করি, তারা এটি গ্রহণ করবে। কারণ তারা যদি তা না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’’

আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের সঙ্গে ‘‘ভদ্র আচরণের দিন শেষ’’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো খুব দ্রুত এবং খুব সহজেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

অবরোধ না তুললে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাবে না ইরান

প্রকাশিত :  ১৫:২৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের শান্তি আলোচনায় অংশ না নেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন শান্তি আলোচনায় কোনো প্রতিনিধি দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান তার পূর্বের অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড়। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ধরনের আলোচনা বা কূটনৈতিক তৎপরতায় বসবে না ইরান।

এদিকে, কূটনীতির মাঠে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন আগামীকাল সোমবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বৈঠককে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে প্রচার করলেও, তেহরানের এই অনড় সিদ্ধান্তে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একতরফা অবরোধ অব্যাহত রেখে আলোচনার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব, যা ইরানের এই সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়েছে।

গত কয়েক দিনে ট্রাম্প প্রশাসন কেবল অবরোধই আরোপ করেনি, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজ জব্দ এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও তাদের সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের সেনারা এখন ‘আঙুল ট্রিগারে’ রেখেই যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

শান্তি আলোচনার আগে দুই পক্ষের এই বৈরী আচরণ ও সামরিক হুঙ্কার মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।