মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল

img

চীনের মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত

প্রকাশিত :  ০৫:২৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

চীনের মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত

ভারতীয় শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলতার সুযোগে সীমিত পরিসরে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে এবং এর মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে চীনা ইউয়ানে। এসব লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে আইসিআইসিআই ব্যাংকের–এর মাধ্যমে। ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেন করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের জেরে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই গত মাসে এ ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এ পরিস্থিতিতে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে ভারতের তেল কেনার খবর এল।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ প্রায় ৯ বছর পর প্রথম ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এই চালানের তেলের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।

এ ছাড়া আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ সম্প্রতি ভিড়তে দিয়েছে ভারত। এসব জাহাজের মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামের একটি জাহাজ ইতিমধ্যে তেল খালাসও করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও রিলায়েন্স—দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করে। ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে তেলের দাম পাঠাচ্ছে বিক্রেতাদের কাছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি রয়টার্স। তেহরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ধরনের তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা থাকায় অনেক ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের জেরে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ইরানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজ রোববার শেষ হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে ‘দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া’ প্রয়োজন হবে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র— সে কারণেই এই ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

“অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করার সময় ইরানের নিউক্লিয়ার ডাস্ট (ইউরেনিয়াম) সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ কারণে এই নিউক্লিয়ার ডাস্ট খুঁড়ে বের করতে হলে বা পুনরুদ্ধার করতে হলে আমদের একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে”, গতকাল সোমবার হোয়াইটস হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

২০২৫ সালের ৬ জুন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে এবং এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ (এনরিচড)। যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এ ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর পরমাণু বোমা বানাতে পারবে ইরান।

আইএইএ-এর বিবৃতির ৬ দিন পর ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। এই সেনা অভিযান শুরুর কয়েক দিন পর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রও।

১২দিন ধরে চলা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ এবং ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর জেরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংগ্রান্ত স্থাপনাগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু দেশটির পরমাণু মজুতের নাগাল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল— সেটিরও প্রধান লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তগত করা।

সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি