img

ভিজিট ভিসায় হজ বন্ধ করল সৌদি, জরিমানসহ একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ০৮:৫৪, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভিজিট ভিসায় হজ বন্ধ করল সৌদি, জরিমানসহ একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা

হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব নতুন কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো ধরনের ভিজিট ভিসা নিয়ে হজ পালন করা যাবে না। খবর গালফ নিউজ।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধুমাত্র বৈধ হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন। জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ বা অবস্থান করলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়ম ভঙ্গকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথাও জানানো হয়েছে। ভিজিট ভিসাধারীরা হজ পালনের চেষ্টা করলে বা মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া হজ পালন করলে প্রবাসীদের গ্রেফতার করে নিজ দেশে পাঠানো হবে এবং তাদের ১০ বছরের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

এরই মধ্যে ওমরাহ যাত্রীদের দেশত্যাগের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল ছিল ওমরাহ ভিসাধারীদের সৌদি আরব ত্যাগের শেষ দিন। এর পর দেশে অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সময়মতো তথ্য না দিলে তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে, ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহ পারমিট ইস্যুও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। নাগরিক, প্রবাসী ও জিসিসি দেশের নাগরিক—সব শ্রেণির জন্যই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে জিলকদ মাসের শুরু থেকে জিলহজের ১৪ তারিখ পর্যন্ত। ফলে এ সময় মক্কায় প্রবেশ কার্যত শুধুমাত্র অনুমোদিত হজযাত্রীদের জন্য সীমিত থাকবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হজকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ‘পারমিট ছাড়া হজ নয়’ স্লোগানের আওতায় এই অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষকে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কোনো অনিয়ম দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে জরুরি নম্বর ৯১১ এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, মক্কায় ভুয়া প্রবেশ অনুমতি বিক্রির অভিযোগে এক সুদানি প্রবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অনুমতি বিক্রির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়েছে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে হজ পালন করা স্পষ্ট আইন লঙ্ঘন। তারা সতর্ক করেছে, নিয়ম মেনে চলাই হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে ‘দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া’ প্রয়োজন হবে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারে একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে যে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র— সে কারণেই এই ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

“অপারেশন মিডনাইট হ্যামার পরিচালনা করার সময় ইরানের নিউক্লিয়ার ডাস্ট (ইউরেনিয়াম) সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ কারণে এই নিউক্লিয়ার ডাস্ট খুঁড়ে বের করতে হলে বা পুনরুদ্ধার করতে হলে আমদের একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে”, গতকাল সোমবার হোয়াইটস হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

২০২৫ সালের ৬ জুন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ পরিষদ আইএইএ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে এবং এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পরিশুদ্ধ (এনরিচড)। যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এ ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর পরমাণু বোমা বানাতে পারবে ইরান।

আইএইএ-এর বিবৃতির ৬ দিন পর ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল। এই সেনা অভিযান শুরুর কয়েক দিন পর ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রও।

১২দিন ধরে চলা ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ এবং ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর জেরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প সংগ্রান্ত স্থাপনাগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু দেশটির পরমাণু মজুতের নাগাল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল— সেটিরও প্রধান লক্ষ্য ইরানের ইউরেনিয়াম হস্তগত করা।

সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি