img

জেন–জি প্রভাবিত বিশ্বের প্রথম নির্বাচন বাংলাদেশে

প্রকাশিত :  ১৮:৩৭, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেন–জি প্রভাবিত বিশ্বের প্রথম নির্বাচন বাংলাদেশে

পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচনের সময় রাজপথে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল প্রায় অনুপস্থিত। কখনো নির্বাচন বর্জন, কখনো শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের কোণঠাসা করা হতো। তবে আসন্ন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে অনেক তরুণ, যারা ওই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, বলছে—২০০৯ সালের পর এবারই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একটি সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩০ বছরের নিচের জেন-জি কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, নির্বাচনী ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে জানান, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্পষ্ট ও শক্তিশালী রায় পাওয়া দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের প্রধান শিল্পখাত—বিশেষ করে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত—ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বাংলাদেশে আঞ্চলিক শক্তি চীন ও ভারতের প্রভাবকেও প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘মতামত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনো বিপুলসংখ্যক ভোটার অনিশ্চিত। বিশেষ করে জেন-জি ভোটাররা—যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।’

দেশজুড়ে এখন চোখে পড়ছে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোস্টার ও ব্যানার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে প্রচারসংগীত। অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীক সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করত, এবার তার অনুপস্থিতি স্পষ্ট।

একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত মিলছে, যদিও দলটি সরকার গঠনে নাও আসতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই দলটির পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এখন ভোটারদের কাছে একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ভারতঘেঁষা রাজনীতি করায় তার পতনের পর ভারতের প্রভাব কিছুটা কমেছে এবং সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে চীন। বিএনপিকে তুলনামূলকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী মনে করা হলেও, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার এলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জামায়াতের জেন-জি মিত্র দল ইতোমধ্যে ‘নয়া দিল্লির আধিপত্য’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তাদের নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। যদিও জামায়াত দাবি করছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকতে চায় না।

অন্যদিকে, বিএনপির তারেক রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে যেকোনো দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে, যারা বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের স্বার্থে উপযোগী প্রস্তাব দেবে।

১৭৫ মিলিয়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও বিনিয়োগ হ্রাসের মুখে। এসব কারণে ২০২২ সাল থেকে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়ন নিতে বাধ্য হয়েছে।

ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক জরিপে দেখা গেছে, ১২৮ মিলিয়ন ভোটারের প্রধান উদ্বেগ দুর্নীতি, এরপর মূল্যস্ফীতি। ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।

প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ২১ বছর বয়সী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, “মানুষ আওয়ামী লীগে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। ভোট দেওয়ার অধিকারই ছিল না। আমি আশা করি, নতুন সরকার—যেই আসুক—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।”

সূত্র: রয়টার্স


img

জয়যাত্রা ইস্যুতে ইরানকে আবারও অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া ছয়টি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উভয় নেতা এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মতভেদ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এবং অপর একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

সেই সময় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয় বৈঠকে।

জাতীয় এর আরও খবর