img

শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে : জিএম কাদের

প্রকাশিত :  ০৬:৫৪, ২০ এপ্রিল ২০২৬

শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে : জিএম কাদের

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছে বলে কথা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তবে আলোচনাটি শুধুই সৌজন্য পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল বলে জানান তিনি।

গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদমাধ্যমের টকশোতে অংশ নিয়ে জিএম কাদের এ তথ্য প্রকাশ করেন। উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা হয়েছে, তবে সেখানে রাজনৈতিক কোনো আলোচনা হয়নি।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, “কুশল বিনিময় হয়েছে। উনি কেমন আছেন, ভালো আছেন, এই ধরনের কথাই হয়েছে।” শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন বা রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কিনা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে; তিনি কবে ফিরবেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনার সঙ্গে তো আমি রাজনীতি করি না। ওই ধরনের কোনো কথা আমার সঙ্গে হয়নি।


img

হরমুজে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইরানের নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১০:১১, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩২, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে ইরান সরকার।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে ইরান সরকার।

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াত সহজতর করার জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যখন হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাঈদ খাতিবজাদেহ অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজখবর নেন। পরে রোববার রাতে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশ্চিত করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে এবং যেকোনো মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের এই গঠনমূলক ও শান্তিপ্রিয় অবস্থানের প্রশংসা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করবেন।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলার ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্য খাত এই রুটটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। 

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নতুন নির্দেশনার ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ অন্যান্য বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

জাতীয় এর আরও খবর