img

সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে: ইসি

প্রকাশিত :  ০৬:৩৪, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৬, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সারাদেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে: ইসি

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে গড়ে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। 

তিনি জানান যে, ২৯৯টি সংসদীয় আসনে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে দেখছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হলেও বাকি আসনগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল হাতে এসেছে। 

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং তারা ২০০টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মতো ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭২ শতাংশ ভোটার এই সংস্কার চার্টারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছেন। নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। 

বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পর্যবেক্ষণ শেষে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সকালে ভোট প্রদানের পর দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে সার্থকতা পেয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে। দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত কঠোর নজরদারির কারণে বড় কোনো কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই এবারের ভোট সম্পন্ন হয়েছে। 

ইসি সচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি আসনগুলোর ফলাফল ও প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভোটারদের এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে যে মানুষ একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা উন্মুখ ছিল।


img

এনসিপিকে বাড়তি নারী আসন দিচ্ছে জামায়াত

প্রকাশিত :  ০৮:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দুইজনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন

\r\n

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।

জোটভিত্তিক বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটকে ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় ১টি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে। সেই সাথে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে আরও একটি দাবি করেছে তারা। এর অংশ হিসেবে জামায়াত তাদের কোটা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং এনসিপির কোটায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিনকে মনোনয়ন দিতে যাচ্ছে দলটি।

এনসিপির একাধিক সূত্রমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দুইজনকে সম্ভাব্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডা. মাহমুদা মিতু ও মনিরা শারমিন। জামায়াতের কাছে আমরা একটি অতিরিক্ত আসন চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। আমরা ২০ তারিখের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেব।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থিতার ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায়ে এবং আমাদের জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রার্থী হতে চেয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় রয়েছে, এসব প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই আমরা প্রার্থিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। সময় হলে দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে একটি এনসিপি পাবে। জোটের কারণে এনসিপিকে আরও একটি বাড়তি নারী আসন দেওয়া হবে। জাগপাকে একটি আসন দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই যুদ্ধে নিহত একজন শিশুর মাকে আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি।’


জাতীয় এর আরও খবর