img

‘স্বামীর উপর অভিমান করে’ স্ত্রীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত :  ১০:১২, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 ‘স্বামীর উপর অভিমান করে’ স্ত্রীর আত্মহত্যা

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ কুরমা চা বাগানে পারিবারিক কলহের জেরে রিনা রানী পাল (৩১) নামে এক সন্তানের জননী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিনা রানী পাল কুরমা চা বাগানের বাসিন্দা এবং স্থানীয় কুরমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুনীল কুমার পালের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রথম দফায় ঝগড়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে আবারও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সকালে রিনা রানী পাল বাথরুমে গিয়ে চা বাগানে ব্যবহৃত বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল হক বিষপানে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পারিবারিক কলহের কারণেই রিনা রানী পাল আত্মহত্যা করেছেন।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ সকালে মৌলভীবাজারে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে জলাবদ্ধতা—নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আবারও সামনে

প্রকাশিত :  ১৯:১১, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলা শহরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে নগর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা। পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে প্রায় ৬০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে বসতঘর ও রাস্তাঘাট, ফলে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও নালা অপরিষ্কার থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। এতে করে পানি জমে থেকে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্ষতির মুখে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এমন পরিস্থিতিতেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এদিকে মৌলভীবাজার জেলা শহরের সাংবাদিক আব্দুল হামিদ মাহবুব তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, রাতভর বৃষ্টি ও বজ্রপাত অব্যাহত রয়েছে। শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করেও তিনি একই ধরনের জলাবদ্ধতার চিত্র দেখেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, “আমি শহরের বাইরে থাকি, তারপরও এই অবস্থা। আমার বাসার সামনে ছোট্ট এই দৃশ্যই পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। শহরের গির্জা পাড়া, সৈয়ারপুর, চৌমুহনা, কাজিরগাঁও, আরামবাগ, কলেমাবাদ—এসব এলাকার অবস্থা কেমন, তা সহজেই অনুমেয়।”

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, কার্যকর নগর পরিকল্পনা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না।

এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর