img

ঋণের বোঝা নিয়ে বাতি জ্বলছে : বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৪:৫৭, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঋণের বোঝা নিয়ে বাতি জ্বলছে : বিদ্যুৎমন্ত্রী

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আমরা স্বীকার করি—আমাদের সময়ে লোডশেডিং ছিল। তবে আমরা জাতির ঘাড়ে অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে যাইনি। এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দেশের ওপর ঋণের চাপ অনেক বেড়েছে। আমার মতে, ঋণে জর্জরিত থাকার চেয়ে কষ্ট করে চলা উত্তম।

ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ও লোকসান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে নিজ দপ্তরে এক বৈঠক করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা এখন ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান। এই বকেয়া ও লোকসানের টাকা দেওয়া না হলে বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে, সেখানে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হযবরল অবস্থা। তিনি বলেন, আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেমলস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। না হলে দায় আরও বাড়বে, আইএমএফ এসে চাপ দেবে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি। যাতে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে নিউজ হচ্ছে, এটা নিউজ নয়। গ্যাসের কূপ খনন করা হয়নি। আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছি। রিগ কেনা হবে, সেখানে দক্ষ জনবল দরকার। 

img

জয়যাত্রা ইস্যুতে ইরানকে আবারও অনুরোধ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২১ এপ্রিল ২০২৬

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া ছয়টি দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায় ইরানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর জবাবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উভয় নেতা এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করবেন।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো মতভেদ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এই গঠনমূলক অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এবং অপর একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন।

সেই সময় রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, ইরানের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের ১৩তম সংসদ অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং শোক বইয়ে স্বাক্ষর করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া ইরানে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগেরও প্রশংসা করা হয় বৈঠকে।

জাতীয় এর আরও খবর