img

স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দাস’ হবে না: স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:২১, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৪৫, ০৪ মার্চ ২০২৬

স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘দাস’ হবে না: স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী

স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী মারিয়া জেসুস মনতেরো বলেছেন, ‘মাদ্রিদ ওয়াশিংটনের দাস হবে না। ’ ইরানে হামলার জন্য নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে স্পেনের অস্বীকৃতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মারিয়া জেসুস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই কারও অনুগত ভৃত্য হচ্ছি না। আমরা কোনো ধরনের হুমকি সহ্য করব না এবং আমরা আমাদের মূল্যবোধ রক্ষা করব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলায় স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ সতর্ক করেছিলেন যে, এই সংঘাত একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘কারও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা এড়ানোর জন্য আমরা এমন কিছুর অংশীদার হব না, যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর কিংবা আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের পরিপন্থী।’

সূত্র: আলজাজিরা।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ নিয়ে নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস

প্রকাশিত :  ১১:১৯, ০১ মে ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যেটিতে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং প্রতিরক্ষা সমন্বয় করবে পেন্টাগন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এএফপিকে বলেন, ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট’ বা এমএফসি নামের এই জোট প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে আছে রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও সমন্বয়। 

মূলত একটি কূটনৈতিক বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানান। এএফপি লিখেছে, ওই কূটনৈতিক বার্তায় মার্কিন দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যেন বিদেশি সরকারগুলোকে এই জোটে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

কূটনৈতিক বার্তাটির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশ ও জাহাজ শিল্পের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। আর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সেন্টকমের মাধ্যমে সমুদ্রপথে চলাচল পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবে। 

দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা শুক্রবারের মধ্যে অংশীদার দেশগুলোর কাছে মৌখিকভাবে কূটনৈতিক বার্তাটি পৌঁছে দেবে। তবে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য প্রতিপক্ষরা এর আওতায় থাকবে না। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন- কূটনৈতিক সহযোগিতা, তথ্য আদান-প্রদান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নৌবাহিনীর উপস্থিতি কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের সহায়তা করা।

যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্যোগের মধ্যেই হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মোজতবা বলেন, ‘আজ থেকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’ তিনি এর ধরন নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। তবে এ জলপথ দিয়ে তেল রপ্তানি করা দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমেরিকাকে ছাড়াই এখন তাদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।’ একই সঙ্গে বলেছেন, জলপথের মতো তেহরান নিজেদের পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতাও বজায় রাখবে।

মোজতবার এই বিবৃতির একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক সরদার আতাস। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরান এখনো তাদের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে এবং আলোচনায় এটিকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগবে। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর