img

বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানের হামলা

প্রকাশিত :  ০৫:১৫, ০৬ মার্চ ২০২৬

বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানের হামলা

এবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে মানামার ‘ফাইন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ারস’ নামের ওই বাণিজ্যিক ভবনে এই আক্রমণ চালানো হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস অবস্থিত হওয়ার কারণেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান এই হামলাকে সরাসরি ইসরায়েলি স্বার্থের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির কাছাকাছি এলাকায় একটি ইরানি ড্রোন শনাক্তের পর সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। লেবাননের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ইসরায়েলি স্থল সেনাদের পাশাপাশি ইসরায়েলের সমুদ্রবন্দরেও এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা লেবানন সীমান্তের মারউন আল-রাস এবং কাফার কিলা এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া অধিকৃত গোলান মালভূমির ‘ইয়োভ’ সামরিক ক্যাম্প এবং হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটিও এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

যদিও এই হামলায় হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি, তবে অভিযানের আগে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এলাকা ত্যাগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৬:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩টি স্তর বা পর্যায়ের নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের একটি পর্যায় নিয়ে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ স্তরের নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান। নতুন সেই প্রস্তাবের বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান এবং লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই দুই দেশে আর মার্কিন কিংবা ইসরায়েলি হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে এবং প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা নিয়ে আলোচনা চলবে।

তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এই বিষয়টি নিয়েই মূল আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। কারণ তিনি চাইছেন, আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে— তারপর ইরানি বন্দরগুলো এবং হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ আসবে।

গতকাল বুধবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “তারা (ইরান) একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে চায়। তারা চায়, আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা প্রত্যাহার করি। তবে আমি এটা চাই না। আগে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) সমঝোতা হবে— তারপর অন্য সবকিছু। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে— এটা আমি কোনোভাবেই চাই না।”

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি এবং কোনো ইরানি জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সাগরে যেতে না পারে— সেজন্য প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ প্রহরা জারি আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে— ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও এই অবরোধ-প্রহরা অনেক বেশি কাজে দিচ্ছে।

“এই অবরোধ এমনকি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কাজে দিচ্ছে। তারা দমবন্ধকর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে এবং যদি অনড় অবস্থায় থাকে— তাহলে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তারা কোনোভাবেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”

“এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা আর কতদিন চলবে কিংবা তারা আর কতদূর যেতে পারবে। আমি বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা যেখানে আছি— তারা যদি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌঁছায়— তাহলে কোনো ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হবে না”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প।

সূত্র : এক্সিওস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর