প্রকাশিত :
০৭:০৯, ০৬ মার্চ ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৬, ০৬ মার্চ ২০২৬
ইসরাইলের তেল আবিবসহ আরও কয়েকটি এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’–এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে তেল আবিবের দিকে খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার সকালে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক রকেট প্রতিহত করার চেষ্টা চালায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই সময় আকাশে বাধা দেওয়ার (ইন্টারসেপ্ট) চেষ্টার মধ্যেই বড় বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এই বিস্ফোরণের শব্দ তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
আইআরজিসির তথ্যানুসারে,শুক্রবার তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ২১তম ধাপের অংশ হিসেবে তেল আবিবের দিকে খেইবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নতুন হামলার ধাপ শুরু হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে, যার লক্ষ্য ছিল তেল আবিবের কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন স্থাপনা।
ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ট্রাম্পের
প্রকাশিত :
০৬:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
তেহরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩টি স্তর বা পর্যায়ের নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের একটি পর্যায় নিয়ে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ স্তরের নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান। নতুন সেই প্রস্তাবের বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান এবং লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই দুই দেশে আর মার্কিন কিংবা ইসরায়েলি হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে এবং প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা নিয়ে আলোচনা চলবে।
তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
এই বিষয়টি নিয়েই মূল আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। কারণ তিনি চাইছেন, আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে— তারপর ইরানি বন্দরগুলো এবং হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ আসবে।
গতকাল বুধবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “তারা (ইরান) একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে চায়। তারা চায়, আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা প্রত্যাহার করি। তবে আমি এটা চাই না। আগে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) সমঝোতা হবে— তারপর অন্য সবকিছু। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে— এটা আমি কোনোভাবেই চাই না।”
গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি এবং কোনো ইরানি জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সাগরে যেতে না পারে— সেজন্য প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ প্রহরা জারি আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে— ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও এই অবরোধ-প্রহরা অনেক বেশি কাজে দিচ্ছে।
“এই অবরোধ এমনকি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কাজে দিচ্ছে। তারা দমবন্ধকর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে এবং যদি অনড় অবস্থায় থাকে— তাহলে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তারা কোনোভাবেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”
“এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা আর কতদিন চলবে কিংবা তারা আর কতদূর যেতে পারবে। আমি বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা যেখানে আছি— তারা যদি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌঁছায়— তাহলে কোনো ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হবে না”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প।