img

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৪২, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩০, ০৭ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

মিস্টার টুকু বলেছেন, ‘দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

তবে বাস্তবে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

 তিনি আরও জানান, ‘ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনাও প্রস্তুত করে রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে সেসব বিকল্প উৎস ব্যবহার করা হবে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।’ তবে গুজব বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, ‘প্যানিক হয়ে কেউ যেন প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করেন। এতে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।’

জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ এড়াতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

জনভোগান্তি কমাতে আগামীকাল থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

সপ্তাহজুড়ে ৬ কোম্পানির ইপিএস প্রকাশ, আয় বৃদ্ধিতে মিশ্র চিত্র

প্রকাশিত :  ১০:৫৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানি বিদায়ী সপ্তাহে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো হলো—লিন্ডে বাংলাদেশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে, আবার কয়েকটির কমেছে। কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

লিন্ডে বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লিন্ডে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে এ আয় ছিল ৬ টাকা ৪৮ পয়সা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৩ পয়সা।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৭৭ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৩৭ টাকা ১ পয়সা।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯০ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর—এই নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা।

একই সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ২৮ পয়সা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা।

এদিকে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ৭৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ১৬ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের সমান।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএসে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা।

আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৯ পয়সা।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮ পয়সা।

প্রকাশের আগে দুটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন:

1. মূল প্রতিবেদনে লিন্ডে বাংলাদেশ ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের এনএভিপিএসের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তে ৩০ জুন ২০২৬ উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিবেদন দেখে তারিখগুলো নিশ্চিত করুন।

2. প্রতিবেদনে সব কোম্পানির হিসাবকাল জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধরা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অর্থবছর ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের হিসাবকাল মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

অর্থনীতি এর আরও খবর