img

হরমুজে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন নিয়ে চীনসহ মার্কিন মিত্ররা যা বলছে

প্রকাশিত :  ০৯:২৬, ১৫ মার্চ ২০২৬

হরমুজে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন নিয়ে চীনসহ মার্কিন মিত্ররা যা বলছে

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিতে মিত্র দেশগুলোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের পশ্চিমা মিত্ররাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সময় শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের ওই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য ও সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত ও মসৃণভাবে এগোয়।’

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব দেশকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে আছে- চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য। তবে এসব দেশের কেউই তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজ মোতায়েনের ইঙ্গিত দেয়নি।

জাপানের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারণ বিষয়ক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জাহাজ মোতায়েনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে-কে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি দিক বেশ কঠিন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণয়ন করা জাপানের সংবিধান অনুযায়ী, দেশটি কেবল তখনই সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারে, যখন নিজেদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। সেক্ষেত্রে সরকারকে ২০১৫ সালের একটি নিরাপত্তা আইনের দারস্থ হতে হবে। তবে এই আইন আগে কখনো ব্যবহার হয়নি।

সিএনএনকে দেওয়া চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্রের সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, চীন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে বেইজিং যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে কি না তা নিয়ে ওই মুখপাত্র মন্তব্য করেননি। তিনি বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল ও বাধাহীন রাখার দায়িত্ব সব পক্ষের। এ বিষয়ে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করা হয়নি। আর ফ্রান্স চাইছে হরমুজের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হোক। তখন তারা প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের চেষ্টা করবে। যুক্তরাজ্য তাদের মিত্রদের সঙ্গে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে প্রণালির অবস্থা খুব শিগগিরই স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ নেই। সম্প্রতি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, হরমুজ আরো কিছুদিন বন্ধ রাখা উচিত। আর খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি স্থাপনায় যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

শুধু সরবরাহ পথ নয়, অন্যান্য স্থাপনা ঘিরেও উত্তেজনা কমার লক্ষণ নেই। রোববার বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি বলেছে, তারা ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা প্রথম দফায় পাল্টা আঘাত করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদে ও পূর্বাঞ্চলে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, ওই ড্রোন হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।


img

হরমুজ প্রণালিতে ৩ ট্যাংকারে গুলি

প্রকাশিত :  ১৪:৪৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গানবোট থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)

সংস্থাটি জানায়, তারা একটি ট্যাংকারে হামলার তথ্য পেয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালিত দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়।

ইউকেএমটিও আরও জানায়, ওমান উপকূলের প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এ ঘটনা ঘটে।

\r\n\r\n\r\n

ট্যাংকারটির ক্যাপ্টেন জানান, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় জাহাজটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদে আছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর