img

বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কিনা, জানাল ফিফা

প্রকাশিত :  ১৮:০৪, ৩১ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১৪, ৩১ মার্চ ২০২৬

বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কিনা, জানাল ফিফা

বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কিনা তা জানিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানান, সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কারণ তাদের বেশিরভাগ গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে বলেন, ইরান বিশ্বকাপে থাকবে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন, বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, ড্র অনুযায়ী নির্ধারিত ভেন্যুতেই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন আগে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তারা ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউমও প্রয়োজনে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। তবে ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে বলেন, ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা, সেখানেই হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথভাবে আয়োজনে বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন শুরু হবে। ইরান তাদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন লস এঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন শিতেলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে দলটিকে স্বাগত জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দিলেও পরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। এর জবাবে ইরান জানায়, কোনোভাবেই তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

এদিকে, তুরস্কে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে ইনফান্তিনো ইরান দলের খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সবকিছু স্বাভাবিক আছে বলে জানান। তিনি বলেন, ফিফা ভূ-রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারে না, তবে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়াতে চায়।


img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।