img

অস্ট্রেলিয়ার ‘আশ্রয়’ ত্যাগ করে ইরানে ফিরছেন আরও ৩ ফুটবলার

প্রকাশিত :  ০৭:১০, ১৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার ‘আশ্রয়’ ত্যাগ করে ইরানে ফিরছেন আরও ৩ ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসা নিয়ে থেকে যাওয়া ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও তিনজন সদস্য দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ রোববার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই তথ্য জানান। এতে প্রথমে সাতজন আশ্রয় নিলেও এখন মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় আছেন।

বার্ক বিবৃতিতে বলেন, ‘গভীর রাতে ইরানি নারী ফুটবল দলের তিনজন সদস্য বাকি দলের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের কাছে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোর পর তাদের বারবার বিকল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

ইরানি দল গত ফেব্রুয়ারিতে নারী এশিয়ান কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা পৌঁছেছিলেন।

২৬ সদস্যের দল থেকে প্রথমে ছয়জন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য মানবিক ভিসা নিয়ে থেকে যান। ৯ মার্চ বাকি দল সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলে যায়। এরপর একজন মত বদলে দেশে ফেরেন। শনিবার রাতে আরও তিনজন সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের পথে রওনা দেন। বাকি দলটি তখন থেকে কুয়ালালামপুরেই অপেক্ষা করছিল।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সর্বশেষ ফেরা তিনজনের মধ্যে দুজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য। এই তিনজন ‘পরিবার ও মাতৃভূমির উষ্ণ আলিঙ্গনে ফিরছেন’ বলে সংবাদ সংস্থাটি বিবৃতিতে জানায়।

প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরলে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ইরানি প্রবাসী গোষ্ঠী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাদের সাহায্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা খেলোয়াড়দের দলে ফেরাকে ‘আমেরিকান-অস্ট্রেলিয়ান প্রকল্পের লজ্জাজনক ব্যর্থতা এবং ট্রাম্পের আরেকটি পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।


img

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৯, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

টান টান উত্তেজনা শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টাইব্রেকার শুটে ভারতকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের শুরুটা গড়ে দিয়েছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে সেই তার শটেই জয়টা এল। ভারতকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অ-২০ সাফের চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। 

শটটা যে ঢঙে এল, সেটাও একটা ঢঙ বটে! 'অরা ফার্মিং' নামে একটা শব্দ আছে জেনজিদের অভিধানে, পেনাল্টি শ্যুট আউটের শেষ শটে রোনান যা করলেন, তাকে অরা ফার্মিংই বলা যায়। 

আগে জানা যাক বিষয়টা কী। অরা ফার্মিং বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের সচেতন বা অচেতন আচরণ, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের উপস্থিতি, ভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যাতে তাকে অন্যদের চোখে আলাদা, আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি এই কাজটা এমনভাবে করেন, যেন তা তার কাছে একেবারেই ডালভাত।

রোনান আজ ম্যাচের শেষ দৃশ্যে ঠিক তাই করলেন। পেনাল্টিটা নিলেন পানেনকা শটে। তা গিয়ে জালে জড়াতেই মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বাধ ভেঙে গেল যেন৷ ভারতকে হারিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন বনে গেল বাংলাদেশ!

অথচ ম্যাচের আগে ইতিহাসটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই কথা বলছিল। ছেলেদের জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ আজকের আগ পর্যন্ত তিন বার ফাইনালে খেলেছে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৯, ২০২২ আর ২০২৫ সালের সেই তিন ফাইনালে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে মানসিক চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ বড়। তার ছাপ ফাইনালে দলের খেলাতে পড়েছে বেশ। গ্রুপপর্বে যে ভারতকে হেসে খেলে হারানো গিয়েছিল, সেই ভারতের বিপক্ষেই যখন ফাইনালে খেলতে হয়েছে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে, তখন তো মনে হবেই যে, ভারত জুজুটা বুঝি আরও একবার পেয়েই বসল বাংলাদেশকে।

রোনান সুলিভানরা সুযোগ অবশ্য তৈরি করেছিলেন বেশ। তার ভাই ডেকলান সুলিভান সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ মুহূর্তে তার বাঁড়ানো বল রোনানকে খুঁজে পেয়েই যাচ্ছিল বক্সে, শেষমেশ তাকে ঠেকান ভারত গোলরক্ষক। 

ভারতও সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে সেসবও মোক্ষম কাজটা করে দিতে পারেনি। ফলে খেলাটা গিয়ে গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে। 

সেখানেও কি কম নাটকীয়তার দেখা মিলেছে? টসে জিতে ভারত প্রথমে শট নেয়, তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন সেটি ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

চতুর্থ শটে স্যামুয়েল আসার আগে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। চার শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মনে হচ্ছিল ডার্ক আর্টের হাত ধরে বুঝি সাফল্যটা পেয়েই যেতে চলল ভারত, আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবতে বসল বাংলাদেশের। 

পরিস্থিতি আবারও বদলে যায় পঞ্চম শটে। ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা বল পাঠান পোস্টের উপর দিয়ে। এরপর আমেরিকান প্রবাসী রোনান তার জাদুর ঝাঁপি থেকে বের করে বসেন সেই অরা ফার্মিং মুহূর্তটা। 

বাংলাদেশও তাতে ইতিহাস গড়ে বসে। যুব সাফের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হারায় ভারতকে। ২০২৪ সালের পর আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যায় বাংলাদেশ।