img

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত

প্রকাশিত :  ১৯:০৩, ০৮ মার্চ ২০২৬

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত

নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফের চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এনিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতল টিম ইন্ডিয়া।

এর আগে ২০০৭ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে প্রথম শিরোপা জিতে নেয় ভারত। গত আসরে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দ্বিতীয় শিরোপা জিতে টিম ইন্ডিয়া। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয় শিরোপা জিতল ভারতীয় ক্রিকেট দল।

আজ রোববার ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের রেকর্ড গড়ে ভারত। 

টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অলআউট হয় নিউজল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ বলে দুই চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন টিম সিপার্ট। এছাড়া ৩৫ বলে তিন চার আর ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ রান করেন অধিনায়ক মিচেল সেন্টনার।

ভারতের হয়ে জসপ্রিত বুমরাহ ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। ৩ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল।

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের ফাইনাল ম্যাচে সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিশানের ব্যাটিং তাণ্ডবে ৫ উইকেটে ২৫৬ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।

দলের হয়ে মাত্র ৪৬ বলে ৫টি চার আর ৮টি ছক্কার সাহায্যে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন সাঞ্জু স্যামসন। তিনি দলকে ফাইনালে তুলতে সেমিফাইনালেও খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস। তার আগের ম্যাচে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের ম্যাচে ৯৭* রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে সেমিফাইনালে তুলে দেন।

আজ ফাইনাল ম্যাচে ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২১ বলে ৬টি চার আর তিন ছক্কায় ৫২ রান করে ফেরেন অভিষেক শর্মা। 

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫ বলে চারটি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান করে ফেরেন ইশান কিশান। ইনিংসের শেষ ওভারে তাণ্ডব চালিয়ে তিন চার আর দুই ছক্কায় ২৪ রান আদায় করে নেন শিবম দুবে। তিনি মাত্র ৮ বল ২৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন।


img

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৯, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

টান টান উত্তেজনা শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টাইব্রেকার শুটে ভারতকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের শুরুটা গড়ে দিয়েছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে সেই তার শটেই জয়টা এল। ভারতকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অ-২০ সাফের চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। 

শটটা যে ঢঙে এল, সেটাও একটা ঢঙ বটে! 'অরা ফার্মিং' নামে একটা শব্দ আছে জেনজিদের অভিধানে, পেনাল্টি শ্যুট আউটের শেষ শটে রোনান যা করলেন, তাকে অরা ফার্মিংই বলা যায়। 

আগে জানা যাক বিষয়টা কী। অরা ফার্মিং বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের সচেতন বা অচেতন আচরণ, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের উপস্থিতি, ভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যাতে তাকে অন্যদের চোখে আলাদা, আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি এই কাজটা এমনভাবে করেন, যেন তা তার কাছে একেবারেই ডালভাত।

রোনান আজ ম্যাচের শেষ দৃশ্যে ঠিক তাই করলেন। পেনাল্টিটা নিলেন পানেনকা শটে। তা গিয়ে জালে জড়াতেই মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বাধ ভেঙে গেল যেন৷ ভারতকে হারিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন বনে গেল বাংলাদেশ!

অথচ ম্যাচের আগে ইতিহাসটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই কথা বলছিল। ছেলেদের জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ আজকের আগ পর্যন্ত তিন বার ফাইনালে খেলেছে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৯, ২০২২ আর ২০২৫ সালের সেই তিন ফাইনালে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে মানসিক চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ বড়। তার ছাপ ফাইনালে দলের খেলাতে পড়েছে বেশ। গ্রুপপর্বে যে ভারতকে হেসে খেলে হারানো গিয়েছিল, সেই ভারতের বিপক্ষেই যখন ফাইনালে খেলতে হয়েছে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে, তখন তো মনে হবেই যে, ভারত জুজুটা বুঝি আরও একবার পেয়েই বসল বাংলাদেশকে।

রোনান সুলিভানরা সুযোগ অবশ্য তৈরি করেছিলেন বেশ। তার ভাই ডেকলান সুলিভান সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ মুহূর্তে তার বাঁড়ানো বল রোনানকে খুঁজে পেয়েই যাচ্ছিল বক্সে, শেষমেশ তাকে ঠেকান ভারত গোলরক্ষক। 

ভারতও সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে সেসবও মোক্ষম কাজটা করে দিতে পারেনি। ফলে খেলাটা গিয়ে গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে। 

সেখানেও কি কম নাটকীয়তার দেখা মিলেছে? টসে জিতে ভারত প্রথমে শট নেয়, তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন সেটি ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

চতুর্থ শটে স্যামুয়েল আসার আগে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। চার শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মনে হচ্ছিল ডার্ক আর্টের হাত ধরে বুঝি সাফল্যটা পেয়েই যেতে চলল ভারত, আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবতে বসল বাংলাদেশের। 

পরিস্থিতি আবারও বদলে যায় পঞ্চম শটে। ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা বল পাঠান পোস্টের উপর দিয়ে। এরপর আমেরিকান প্রবাসী রোনান তার জাদুর ঝাঁপি থেকে বের করে বসেন সেই অরা ফার্মিং মুহূর্তটা। 

বাংলাদেশও তাতে ইতিহাস গড়ে বসে। যুব সাফের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হারায় ভারতকে। ২০২৪ সালের পর আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যায় বাংলাদেশ।