img

আইসিসিকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে ফেলল পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ০৮:৩৯, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আইসিসিকে ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে ফেলল পাকিস্তান

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টে আয়ের বিশাল খনি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ২০১২ সাল থেকে আইসিসি প্রতিটি ইভেন্টেই দুই দলকে এক গ্রুপে রেখে আসছে। টুর্নামেন্টের সূচিও এমনভাবে সাজানো হয়, যাতে দুই দলের একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকে। যদিও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে গত ১৪ বছর ধরে দেশ দুটির মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি। তবে এবার পাকিস্তানের বিশ্বকাপে ভারতে বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর সম্ভাবনা আছে ২০১০ সালের পর প্রথম কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হওয়ার। নিশ্চিতবাবেই আয়ের সেই বিশাল অঙ্কে টান পড়বে আইসিসির। তাতে কিছুটা বিচলিত হলেও নরমে-গরমে একটি বার্তাও দিয়ে রেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা।

পাকিস্তান সরকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার ঘণ্টা তিনেক পর আইসিসি একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তাদের সেই বার্তায় পাকিস্তানকে না খেলার ‘সুদূরপ্রসারী প্রভাবের’ কথা যেমন মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তেমনি আছে ‘গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খোঁজার আশ্বাসও। আইসিসির এই নরম-গরম বিবৃতির আড়ালে আসলে লুকিয়ে আছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল ‘শক্তি’। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মাঠের লড়াইকে অনেকে ‘ট্রফির চেয়েও বড়’ মনে করেন। আর্থিক অঙ্কে হিসাব করলে কথাটা যে কত বড় সত্যি, তা টের পাওয়া যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দাবি, শুধু এই একটি ম্যাচ ঘিরেই জড়িয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকারও বেশি! পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি সব ম্যাচের মিলিত বাজারের চেয়েও এই এক ম্যাচের ওজন বেশি।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মোট বাজারমূল্য কত, সুনির্দিষ্ট গাণিতিক হিসাব নেই। তবে সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের হার, স্পনসরশিপ, টিকিট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকা- মিলিয়ে রক্ষণশীল হিসেবেও প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার বেশি। এনডিটির প্রতিবেদন বলছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষেও সংখ্যাও অনেক। সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান, আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), দুই দেশের খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ, সর্বোপরি ক্রিকেট খেলুড়ে সব দেশই।

ম্যাচটি না হলে সরাসরি আঘাত পড়বে সম্প্রচার স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠানের আয়ে। বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে তারা আইসিসি থেকে স্বত্ব কেনে। শুধু একটি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ থেকেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩০০ কোটি রুপি ওঠে বলে ধারণা করা হয়। ম্যাচ না হওয়া মানে এই লাভটা তারা করতে পারবে না। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী জিওস্টার আগেই লোকসানের কারণে আইসিসির কাছে অর্থ ফেরত চেয়েছে। এবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে যা আরও জোরালো হবে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের অভ্যন্তরীণ মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৩৮.৭ কোটি রুপি।

শুধু তাই নয়, সম্প্রচারকারীরা যখন অর্থ ফেরত চাইবে, চাপটা পড়বে আইসিসির ওপর। আর আইসিসির আয় কমে গেলে ধাক্কা যাবে সদস্যদেশগুলোর ওপরও। আরও স্পষ্ট করে বললে আইসিসির আয় কমে যাওয়ার অর্থ হলো ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও অন্য সদস্যদেশগুলোরও অনুদান কমে যাওয়া। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে সহযোগী দেশ ও ছোট পূর্ণ সদস্যরা, যারা আইসিসির অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ম্যাচ না হলে দুই দেশের বোর্ডই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে ক্ষতির মুখে পড়বে। বিসিসিআই আইসিসির আয়ের প্রায় ৩৮.৫ শতাংশ পায়। যদিও ভারতীয় বোর্ডের আয়ের বড় খাত হচ্ছে আইপিএল এবং নিজেদের দেশে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। পাকিস্তান আইসিসির মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে, যা বছরে প্রায় ৩.৪৫ কোটি ডলার। অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি প্রতিপালন ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মতো শর্ত থাকায় ভারত-ম্যাচ বর্জনের প্রভাব পড়তে পারে তাদের আয়ে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তান স্বেচ্ছায় ভারত ম্যাচ বর্জন করায় বিষয়টি ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির আওতায় পড়বে না। ফলে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার দায়ভার পুরোপুরি বহন করতে হতে পারে। আইসিসির ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ ভঙ্গের অভিযোগে টুর্নামেন্টের পাওনা অর্থ আটকে যাওয়া বা বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকিও আছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় ক্ষতি অর্থের নয়, সুনামের। সম্প্রচার সংস্থা বা বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না। সূচিতে থাকা ম্যাচ একবার না হওয়ার অর্থ পরবর্তী সময়ে ম্যাচগুলো ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এতে স্পনসরদের আগ্রহ কমতে পারে, সম্প্রচারমূল্যও কমতে পারে।



img

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ফুটবলকে বিদায় জাপান অধিনায়কের

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ১২ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ যাত্রা শুরুর মাত্র তিন দিন আগে বড় ধাক্কা খেল জাপান। দলের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার পায়ের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। ফলে তাকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে জাপানের দলে সুযোগ পেয়েছেন বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ফরোয়ার্ড শুতো মাচিনো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এন্দো বলেন, ‘আমি খেলতে না পারায় অবশ্যই হতাশ। তবে আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবেই যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। তাই আসুন, আমরা সেই বিশ্বাস ধরে রাখি এবং দলকে সমর্থন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টেই যেন সেই মুহূর্ত আসে, সে জন্য জাপানের শক্তিকে একত্রিত করি।’

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে এন্দো লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন থেকে আমি আরেকজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে জাপানকে সমর্থন করব।’

গত ফেব্রুয়ারিতে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান এন্দো। ওই চোটে তার মৌসুম শেষ হয়ে যায়। পরে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি জাতীয় দলে ফেরেন। সেই ম্যাচে জাপান ১-০ গোলে জেতে।

তবে ওই ম্যাচে বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তিনি। এরপর মেক্সিকোতে জাপানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পেও অস্বস্তি অনুভব করেন। পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনেও অংশ নিতে পারেননি।

সোমবার জাপান দলের বিশ্বকাপ ঘাঁটি ন্যাশভিলে পৌঁছানোর পর অনুশীলনে যোগ দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো ফিট হতে পারেননি এন্দো।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চোট পাওয়ার পর থেকে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। অবশ্যই আমি হতাশ যে এই বিশ্বকাপে খেলতে পারছি না।’

‘তবে তার চেয়েও বেশি গর্বের বিষয় হলো, কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে আমি এই দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং দলকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি, যেখানে বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যকে স্বাভাবিকভাবে বলা যায়।’

২০১৫ সালে জাপানের হয়ে অভিষেক হয়েছিল এন্দোর। জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং চারটি গোল করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের হয়ে খেলেছেন। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের বিপক্ষে জাপানের স্মরণীয় জয়ের ম্যাচেও মাঠে ছিলেন এই অভিজ্ঞ ফুটবলার।

আসন্ন বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এফ’-এ জাপানের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেন।