img

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

প্রকাশিত :  ১৬:৩৩, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৪৭, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলের অধিনায়কত্বে ২০২০ সালের ১৭ জানুয়ারি  বিপিএলে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় রাজশাহী রয়েলস।

আজ ২৩ জানুয়ারি মিরপুরের সেই শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফের চ্যাম্পিয়ন হলো রাজশাহী। এবারের আসরে নাম পরিবর্তন করে রাজশাহী ওয়ারির্য়স নামে খেলা দলটি আজ ফাইনালে হারালো চট্টগ্রাম রয়েলসকে। ৬৩ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি।

শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনালে প্রlথমে ব্যাট করে তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে রাজশাহী।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরু থেকে উইকেটে হারাতে থাকা চট্টগ্রাম; শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন চট্টগ্রামের হয়ে খেলা পাকিস্তানি ওপেনার মিরাজ বেগ।
আরেক পাকিস্তানি আসিফ আলি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেন। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চট্টগ্রামের ৭ জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি। যে কারণে চট্টগ্রাম বিপিএলে তৃতীয়বার ফাইনালে উঠেও শিরোপার লড়াইয়ে হেরে যায়। 
রাজশাহীর হয়ে লংকান তারকা পেসার বিনু ফার্নান্দো ৩ ওভারে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। হাসান মুরাদ ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে ৩ উইকেট নেন। ২ উইকেট নেন জেমস নিশাম।
শুক্রবার বিপিএল ফাইনালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে রাজশাহী। ওপেনিং জুটিতে ১০.২ বলে ৮৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৩০ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ৩০ রান করে সাজঘরে ফিরেন পাকিস্তানি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান।
দলকে শুরু থেকেই এগিয়ে নেন বাংলাদেশ দলের তারকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ২৯ বলে ৬টি ছক্কার সাহায্যে গড়েছেন ফিফটি। পরের ৩১ বলে পঞ্চশপূর্ণ করে বিপিএল ফাইনালে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তানজিদ। তবে বিপিএলে এটা তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।
৬১ বলে সেঞ্চুরি করার পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি তানজিদ। ১৮.৫ ওভারে দলীয় ১৬৩ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন এই ওপেনার। এরপর শেষ ৭ বলে ১১ রান সংগ্রহ করতে রাজশাহী হারায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট। 
রাজশাহীর হয়ে ১০০ রান করেন তানজিদ। ৩০ রান করেন শাহিবজাদা ফারহান। ১৫ বলে ২৪ রান করেন কেন উইলিয়ামস। ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে ৭ বলে ১১ রান করে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। 
চট্টগ্রামের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম ও মুকিদুল ইসলাম।

img

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৯, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

টান টান উত্তেজনা শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টাইব্রেকার শুটে ভারতকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের শুরুটা গড়ে দিয়েছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে সেই তার শটেই জয়টা এল। ভারতকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অ-২০ সাফের চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। 

শটটা যে ঢঙে এল, সেটাও একটা ঢঙ বটে! 'অরা ফার্মিং' নামে একটা শব্দ আছে জেনজিদের অভিধানে, পেনাল্টি শ্যুট আউটের শেষ শটে রোনান যা করলেন, তাকে অরা ফার্মিংই বলা যায়। 

আগে জানা যাক বিষয়টা কী। অরা ফার্মিং বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের সচেতন বা অচেতন আচরণ, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের উপস্থিতি, ভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যাতে তাকে অন্যদের চোখে আলাদা, আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি এই কাজটা এমনভাবে করেন, যেন তা তার কাছে একেবারেই ডালভাত।

রোনান আজ ম্যাচের শেষ দৃশ্যে ঠিক তাই করলেন। পেনাল্টিটা নিলেন পানেনকা শটে। তা গিয়ে জালে জড়াতেই মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বাধ ভেঙে গেল যেন৷ ভারতকে হারিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন বনে গেল বাংলাদেশ!

অথচ ম্যাচের আগে ইতিহাসটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই কথা বলছিল। ছেলেদের জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ আজকের আগ পর্যন্ত তিন বার ফাইনালে খেলেছে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৯, ২০২২ আর ২০২৫ সালের সেই তিন ফাইনালে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে মানসিক চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ বড়। তার ছাপ ফাইনালে দলের খেলাতে পড়েছে বেশ। গ্রুপপর্বে যে ভারতকে হেসে খেলে হারানো গিয়েছিল, সেই ভারতের বিপক্ষেই যখন ফাইনালে খেলতে হয়েছে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে, তখন তো মনে হবেই যে, ভারত জুজুটা বুঝি আরও একবার পেয়েই বসল বাংলাদেশকে।

রোনান সুলিভানরা সুযোগ অবশ্য তৈরি করেছিলেন বেশ। তার ভাই ডেকলান সুলিভান সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ মুহূর্তে তার বাঁড়ানো বল রোনানকে খুঁজে পেয়েই যাচ্ছিল বক্সে, শেষমেশ তাকে ঠেকান ভারত গোলরক্ষক। 

ভারতও সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে সেসবও মোক্ষম কাজটা করে দিতে পারেনি। ফলে খেলাটা গিয়ে গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে। 

সেখানেও কি কম নাটকীয়তার দেখা মিলেছে? টসে জিতে ভারত প্রথমে শট নেয়, তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন সেটি ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

চতুর্থ শটে স্যামুয়েল আসার আগে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। চার শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মনে হচ্ছিল ডার্ক আর্টের হাত ধরে বুঝি সাফল্যটা পেয়েই যেতে চলল ভারত, আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবতে বসল বাংলাদেশের। 

পরিস্থিতি আবারও বদলে যায় পঞ্চম শটে। ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা বল পাঠান পোস্টের উপর দিয়ে। এরপর আমেরিকান প্রবাসী রোনান তার জাদুর ঝাঁপি থেকে বের করে বসেন সেই অরা ফার্মিং মুহূর্তটা। 

বাংলাদেশও তাতে ইতিহাস গড়ে বসে। যুব সাফের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হারায় ভারতকে। ২০২৪ সালের পর আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যায় বাংলাদেশ।