img

বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা

প্রকাশিত :  ১১:২৯, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা

বাছাই পর্বে টানা পাঁচ জয় তুলে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বে আগেই এক পা দিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এবার সুপার সিক্সের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হার নিশ্চিত হওয়ায় সুপার সিক্সের দুই ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের টিকিট পেল টাইগ্রেসরা।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। নারী টি-টুয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের মেয়েদের চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। জবাব দিতে নেমে থাইল্যান্ডের দৌড় থেমেছে ১২৬ রানেই।

সুপার সিক্সের টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সবার ওপরে। ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিগারদের। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট এখানে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সে সুযোগ পাওয়া যে দলগুলো গ্রুপেও প্রতিপক্ষ ছিল, তারা এই রাউন্ডে একে অন্যের বিপক্ষে খেলবে না। যে কারণে সুপার সিক্সে একটা দল আসলে ম্যাচ খেলবে ৩টি, হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্ট।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রানরেট (১.১৫০), তাদের চেয়ে ভালো রানরেট শুধু ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডের (১.৩৫৬)। সুপার সিক্সের সেরা চারটি দল সুযোগ পাবে এ বছর জুন–জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে হতে যাওয়া টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ছিল বিশাল এক ধাক্কা খেয়ে। প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মেরে ফিরে যান ওপেনার দিলারা আক্তার। দ্রুত ফেরেন শারমিনও। তবে এরপরই হাল ধরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। এই দুজনের ৮২ বলে ১১০ রানের জুটিই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।

জুয়াইরিয়া ৪৫ বলে ৪ ছক্কায় করেছেন ৫৬ রান। নারী টি–টুয়েন্টিতে এক ইনিংসে এটি কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার যৌথ রেকর্ড। অন্য প্রান্তে সোবহানা ছিলেন আরও মারমুখী, ৪২ বলে ৫৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন তিনি। শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ‘ক্যামিও’তে স্কোরবোর্ডটা সমৃদ্ধ হয়।

ব্যাট হাতে দিলারা প্রথম বলে আউট হলেও বল হাতে তার শোধ নিয়েছেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বলেই থাই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠান এই পেসার। এরপর থাইল্যান্ড আর সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি।

১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬১ রান তুললেও জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রানরেট কখনোই তাদের নাগালে ছিল না। শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৭৫ রান, যা অসম্ভবই ছিল তাদের জন্য। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানেই থামে থাইদের ইনিংস। মারুফা ২৫ রানে ৩টি এবং রিতু ও স্বর্ণা নেন ২টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৫/৮ (জুয়াইরিয়া ৫৬, সোবহানা ৫৯, রিতু ১৫, শারমিন ১১; পুত্থাওয়াং ৩/২২, ওনিচা ২/২৯)।

থাইল্যান্ড: ২০ ওভারে ১২৬/৮ (চ্যান্থাম ৪৬, চাইউই ৩০, কোনচারোয়নকাই ২৯; মারুফা ৩/২৫, রিতু ২/২০, স্বর্ণা ২/২১)।

ফল: বাংলাদেশ ৩৯ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: সোবহানা মোস্তারি

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

প্রকাশিত :  ১২:৩৫, ১৪ মে ২০২৬

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে দীর্ঘদিনের অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার \'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ\'-এ ভূষিত করা হয়েছে।

বুধবার আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি তাকে এই সম্মাননা প্রদান করেন।

২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সাফল্যে আফ্রিদির অসামান্য ভূমিকার কথা এ সম্মাননায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বের অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে এ পদকের মাধ্যমে।

সম্মাননা গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি কেবল তার একার অর্জন নয় বরং পুরো পাকিস্তানি জাতির অর্জন। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং অকুণ্ঠ সমর্থনেরই প্রতিফলন এ পদক। উদার মনের এই ক্রিকেটার এ সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন পাকিস্তানের বীর শহীদদের প্রতি। 

তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ পদক উৎসর্গ করছি’।সবশেষে তিনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন।