img

দেশে আর কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১২:০৭, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশে আর কোচিং সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশের শতভাগ কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হবে এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ভবিষ্যতে দেশে কোচিং সেন্টার পরিচালনার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে একটি মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সময়মতো পাঠদানে ক্লাসরুমে উপস্থিত থাকেন কি না সেটি সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড রাখা হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেলে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমেও যদি কোনো নকল পাওয়া যায় তার জন্যও প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে।’ 

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের বাইরে থেকে কেউ নকলে সহযোগিতা করলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে নকল করতে দেওয়া হবে না, নকলের সহযোগিতাও করতে দেওয়া হবে না।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. কবির আহমদ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

প্রকাশিত :  ১১:০৬, ০২ মে ২০২৬

সরকার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে । একইসঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, সম্ভব হলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

বর্তমান অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই পরীক্ষাগুলো প্রায়ই পিছিয়ে যায়। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সরকার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, \'আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই শেষ হবে। এরপর তারা জানুয়ারিতে সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে। এতে দুই বছরের মধ্যেই তাদের কারিকুলাম ও সিলেবাস সম্পন্ন হবে।\'

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর হবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস, যা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা নিতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

নতুন কারিকুলাম কবে থেকে কার্যকর হবে— এ প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, \'শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করবে, ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করবে এবং কোনো সেশন জট ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। যদি সম্ভব হয়, ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হবে।\'

তবে নতুন সময়সূচি ২০২৭ সালের এসএসসি থেকে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। এহছানুল হক বলেন, \'এখন ২০২৬, ২০২৭, ২০২৮ কিংবা ২০২৯—এসব পরের বিষয়। আগে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে আমরা কী চাই। ডিসেম্বরেই অ্যাকাডেমিক বছর শেষ হবে, এবং আমরা ডিসেম্বরেই সব সম্পন্ন করব।\'

দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।