img

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না

প্রকাশিত :  ০৬:৫৩, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সংস্থাটির নৌবাহিনীর কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালিতে বিস্তর পরিবর্তন এসেছে। প্রণালিটি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য।

আরও বলা হয়, ইরান একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলোই পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক নৌপথে বিদেশি প্রভাব বা আধিপত্যের যুগ শেষ বলেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন।

একইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথে দেওয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যাান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পোস্টে তিনি বলেন, ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’ সব একসঙ্গে ঘটবে। ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুমকির পরও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে ইরান। বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের গুরত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে এখনও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে দেশটি। এমনকি এ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশিত :  ১০:২৭, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি গ্যাস ও পেট্রোলজাত গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) গ্যাস-গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস-গ্যাসোলিনের এই দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে দেশটিতে গ্যাসের দাম ৪ ডলারের বেশি উঠেছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। সেবার প্রতি গ্যালন গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৪ দশমিক ১৫ ডলারে।

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাস-গ্যাসোলিন বিক্রি হয়েছে ৩ দশমকি ১৫ ডলারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যে অবশ্য গ্যাসের দাম সমান নয়। যেসব রাজ্যে তেল কিংবা গ্যাসের খনি আছে, যেমন টেক্সাস— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাস বা গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৭৮ ডলার। আবার যেসব রাজ্যে খনি নেই— যেমন ক্যালিফোর্নিয়া— সেসব রাজ্যে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিন ৫ দশমিক ৯৬ ডলারেও বিক্রি হচ্ছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত; কিন্তু ইরানি অবরোধের জেরে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে গড়ে ৮ থেকে ১০টি জাহাজ।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, গাল্ফ নিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর