img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কীভাবে মধ্যস্থতা করলো পাকিস্তান?

প্রকাশিত :  ১৩:২০, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২৮, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কীভাবে মধ্যস্থতা করলো পাকিস্তান?

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে নিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, তাদের সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্ররা ‘সব জায়গায়’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

শেহবাজ শরিফ বলেন, এর আগে ট্রাম্প ও তেহরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেটির ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‌‘‘গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয় অর্জন করেছে পাকিস্তান।’’

‘‘এটি সেই সব সংশয়বাদী ও নেতিবাচক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের ভুল প্রমাণ করেছে; যারা মনে করেছিলেন পাকিস্তানের এমন এক জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা নেই।’’

• ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন?

তেহরানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’’

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে দেশটির ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংযোগও রয়েছে।

ইরানের পর পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তানকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইরান। পাকিস্তানও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে একইভাবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিদান দিয়েছিল।

ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনও দূতাবাস না থাকায় সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে পাকিস্তান।

• যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বিভক্ত কাশ্মির ঘিরে পাকিস্তান ও ভারতের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার মাঝে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ওয়াশিংটন সফর করেন তিনি। সেই সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এই প্রধানকে সামরিক পোশাকের বদলে পশ্চিমা স্যুটে দেখা যায়।

ভারত-পাকিস্তানের মাঝে সেই সংঘাতের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘‘সাহসী ও দূরদর্শী’’ হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছিলেন শেহবাজ শরিফ। আর অসীম মুনির বলেছিলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মাঝে সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।

ইরান সঙ্গে সংঘাত ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান ওই দেশটিকে ‘‌‘অন্যদের চেয়ে ভালো’’ জানে। পরিবর্তনশীল কৌশলগত স্বার্থের কারণে প্রায়ই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিলেও দীর্ঘকাল ধরে সেই সম্পর্ককে জোরদার করতে সহায়তা করেছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

এমনকি ৯/১১ হামলা পরবর্তী ‘‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে’’ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ন্যাটো জোটের সৈন্যদের ওপর হামলায় জড়িত জঙ্গিদের পাকিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে বলে সেই সময় অভিযোগ করা হয়।

২০১১ সালে ইসলামাবাদকে না জানিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ঢুকে মার্কিন সৈন্যরা অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সেই সময় আল-কায়েদার ওই পলাতক নেতাকে পাকিস্তান আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করে ওয়াশিংটন।

• আঞ্চলিক অন্য পক্ষগুলোর ভূমিকা কী?

২০২৫ সালে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই চুক্তি দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করলেও ইরানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

শরিফ ও তার সরকার রিয়াদকে পাশে রাখতে তৎপর এবং সম্প্রতি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার জন্য দেশটিতে সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। এএফপিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সহায়তা করেছে বেইজিং।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সংঘাতের সমাধানের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। এরপর এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বেইজিংয়ে যান তিনি।

এরপর ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন দীর্ঘদিনের দক্ষিণ এশীয় মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে একটি পরিকল্পনার আহ্বান জানায়। ‘‘পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের’’ প্রতি সমর্থন জানায় চীন।

• মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের লাভ কী?

পাকিস্তানের জন্য নিরপেক্ষ থাকা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক। কারণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এবং দেশটি নিজের ঘরের দোরগোড়ায় নতুন করে কোনও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতো, দাম বেড়ে যেতো এবং অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানের সরকারের ওপর আরও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতো।

যুদ্ধের স্থায়ী অবসান কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থানকেও উন্নত করবে। তবে এমন এক সময়ে এই মধ্যস্থতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যখন দেশটি প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার এক বছরও পার হয়নি।

 • পাকিস্তানের পরবর্তী ভূমিকা কী হবে?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি আগামী ১০ এপ্রিল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাবেন।

দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত দুররানি বলেন, ‘‘ইরান ইসলামাবাদে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এ কারণেই তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা মেনে নিয়েছে পাকিস্তান দুই পক্ষকে তাদের মধ্যকার অমীমাংসিত মতভেদের অবসানে সহায়তা করতে পারে।’’

তিনি বলেন, যদি সরাসরি আলোচনা হয় এবং সেখানে কোনও অচলাবস্থা তৈরি হয়, তাহলে পাকিস্তান সব পক্ষকে আলোচনার ভাষা পরিমার্জনে সাহায্য করতে পারে। দুই পক্ষ যদি সরাসরি মুখোমুখি বসতে রাজি না হয়, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না পাকিস্তান। তারপরও দেশটির মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বোমা হামলা স্থগিতের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল বলেছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়; যেখানে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ইসরায়েলের এই অবস্থান অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আগের বক্তব্যের বিপরীত। এর আগে, তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননসহ সব জায়গার’ জন্য প্রযোজ্য হবে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের নতুন প্রস্তাবের যে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৬:০৯, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

তেহরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ৩টি স্তর বা পর্যায়ের নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবের একটি পর্যায় নিয়ে আপত্তি আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

কয়েক দিন আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ স্তরের নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান। নতুন সেই প্রস্তাবের বলা হয়েছে, প্রথম স্তরে ইরান এবং লেবাননে যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই দুই দেশে আর মার্কিন কিংবা ইসরায়েলি হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দ্বিতীয় স্তরে ইরানের বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ তুলে নেবে এবং প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা নিয়ে আলোচনা চলবে।

তৃতীয় পর্যায়ে বলা হয়েছে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

এই বিষয়টি নিয়েই মূল আপত্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। কারণ তিনি চাইছেন, আগে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে— তারপর ইরানি বন্দরগুলো এবং হরমুজ থেকে মার্কিন অবরোধের প্রসঙ্গ আসবে।

গতকাল বুধবার এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, “তারা (ইরান) একটা মীমাংসায় পৌঁছাতে চায়। তারা চায়, আমি যেন হরমুজ থেকে মার্কিন প্রহরা প্রত্যাহার করি। তবে আমি এটা চাই না। আগে (পরমাণু প্রকল্প নিয়ে) সমঝোতা হবে— তারপর অন্য সবকিছু। ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হবে— এটা আমি কোনোভাবেই চাই না।”

গত ১২ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি এবং কোনো ইরানি জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সাগরে যেতে না পারে— সেজন্য প্রণালির চারপাশে কঠোর প্রহরা জারির নির্দেশ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এ প্রহরা জারি আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে— ইরানে বোমাবর্ষণের চেয়েও এই অবরোধ-প্রহরা অনেক বেশি কাজে দিচ্ছে।

“এই অবরোধ এমনকি বোমাবর্ষণের চেয়েও বেশি কাজে দিচ্ছে। তারা দমবন্ধকর অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে এবং যদি অনড় অবস্থায় থাকে— তাহলে সামনে আরও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তারা কোনোভাবেই পরমাণু বোমার অধিকারী হতে পারবে না।”

“এখন প্রশ্ন হলো, এই অবস্থা আর কতদিন চলবে কিংবা তারা আর কতদূর যেতে পারবে। আমি বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমরা যেখানে আছি— তারা যদি পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে না পৌঁছায়— তাহলে কোনো ইস্যুতে কোনো অগ্রগতি হবে না”, এক্সিওসকে বলেছেন ট্রাম্প।

সূত্র : এক্সিওস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর