img

৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ১০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৩৩, ১০ এপ্রিল ২০২৬

৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার

টানা ৪০ দিনের সংঘাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও সেতুসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার প্রভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে, জেরুজালেম পোস্টের তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, এই সংঘাতে ইরানের মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান।

ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে—৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ধ্বংস বা অচল হয়ে গেছে।

শিক্ষা খাতে ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। অন্তত ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রেডক্রসের ২০টি স্থাপনাও ধ্বংস হয়েছে।

অন্যদিকে সামরিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ ও শারাউদসহ চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং ২৯টি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই সংঘাত ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট

হরমুজ ইস্যু

img

ইরানের সুবিধাজনক অবস্থানকে ‘একটু চালাকি’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইরান ‘একটু বেশি চালাকি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে জানায় দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আবার এই প্রণালি বন্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং আশা করছি দিনের শেষে এই বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।’

এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার ওপর আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চমৎকার চলছে।’ তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার অন্তরালে এখনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে পরস্পরবিরোধী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইরানি অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত দিন এই আচরণ বজায় রাখবে, ইরান তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।’

তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমানস সম্পর্কে খোশচেশম বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতিরোধের পক্ষে। তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ প্রতি রাতে রাজপথে নেমে এসে এই ‘প্রতিরোধ’ জারি রাখার দাবি জানাচ্ছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অধ্যাপক বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা এই শ্রেষ্ঠত্ব বা আধিপত্য প্রমাণ করতে চায়।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর