img

ইরানের তেল বিক্রি রুখতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৫:৩৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:১০, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের তেল বিক্রি রুখতে একজোট হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরান যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনোভাবেই তেল বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এবং ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ‘অনেক ইতিবাচক ঘটনা’ ঘটছে যা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে দেবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ওয়াশিংটন এখন একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে হাঁটছে।

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, এটি এখনো ভালোভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে একই সাথে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উপহাস করে বলেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ অবস্থায় আছে। 

ইরানের নৌবাহিনীর শক্তি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তাদের পুরো নৌবাহিনী এখন পানির নিচে।’ ট্রাম্পের মতে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কার্যকর হবে কারণ অন্যান্য দেশগুলোও এখন ইরানকে তেল বিক্রি থেকে বিরত রাখতে সহযোগিতা করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে ইরানের তেলের যোগান বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালিতে উত্তজনা এবং আসন্ন অবরোধের কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলের ট্যাঙ্কার ইতিমধ্যে তাদের পথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক জাহাজ আমাদের দেশের দিকে আসছে তেল সংগ্রহ করার জন্য। তারা আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবে না।’ 

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব তেলের মজুদ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারের চাহিদা মেটানোর এবং জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচলে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে তাঁর কঠোর মন্তব্য এবং নৌ-অবরোধে অন্য দেশের সম্পৃক্ততার দাবি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। 

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কী ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে বিশ্ববাসী। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অবস্থান দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

হরমুজ ইস্যু

img

ইরানের সুবিধাজনক অবস্থানকে ‘একটু চালাকি’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইরান ‘একটু বেশি চালাকি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে জানায় দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আবার এই প্রণালি বন্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং আশা করছি দিনের শেষে এই বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।’

এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার ওপর আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চমৎকার চলছে।’ তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার অন্তরালে এখনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে পরস্পরবিরোধী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইরানি অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত দিন এই আচরণ বজায় রাখবে, ইরান তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।’

তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমানস সম্পর্কে খোশচেশম বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতিরোধের পক্ষে। তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ প্রতি রাতে রাজপথে নেমে এসে এই ‘প্রতিরোধ’ জারি রাখার দাবি জানাচ্ছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অধ্যাপক বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা এই শ্রেষ্ঠত্ব বা আধিপত্য প্রমাণ করতে চায়।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর