img

যুক্তরাষ্ট্র ‘স্বৈরতন্ত্র’ পরিত্যাগ করলে চুক্তি হতে পারে : পেজেশকিয়ান

প্রকাশিত :  ০৮:৩৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ‘স্বৈরতন্ত্র’ পরিত্যাগ করলে চুক্তি হতে পারে : পেজেশকিয়ান

পাকিস্তানের বৈঠক ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সুযোগ এখনও আছে বলে মনে করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ পরিত্যাগ করলে তাহলেই দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া সম্ভব।

গতকালস রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেছেন, “যদি মার্কিন সরকার তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে— তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ বের করা সম্ভব। আমি (ইরানের) প্রতিনিধি দলের সব সদস্যকে, বিশেষ করে আমার প্রিয় ভাই জনাব কালিবাফকে অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং বলছি ঈশ্বর আপনাদের শক্তি দিন।”

রোববার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর এক্সে এই বার্তা পোস্ট করেন পেজেশকিয়ান।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়াও ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।

কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।

সূত্র : বিবিসি

হরমুজ ইস্যু

img

ইরানের সুবিধাজনক অবস্থানকে ‘একটু চালাকি’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইরান ‘একটু বেশি চালাকি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে জানায় দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আবার এই প্রণালি বন্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং আশা করছি দিনের শেষে এই বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।’

এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার ওপর আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চমৎকার চলছে।’ তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার অন্তরালে এখনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে পরস্পরবিরোধী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইরানি অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত দিন এই আচরণ বজায় রাখবে, ইরান তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।’

তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমানস সম্পর্কে খোশচেশম বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতিরোধের পক্ষে। তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ প্রতি রাতে রাজপথে নেমে এসে এই ‘প্রতিরোধ’ জারি রাখার দাবি জানাচ্ছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অধ্যাপক বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা এই শ্রেষ্ঠত্ব বা আধিপত্য প্রমাণ করতে চায়।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর