img

এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস সৌদি আরবের

প্রকাশিত :  ০৯:৪৫, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইরানকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস সৌদি আরবের

চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি রিয়াদ পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবে বলে জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। 

আলাপকালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং আমেরিকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার বিষয়েও সৌদি পক্ষকে অবহিত করা হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফোনালাপে জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সদিচ্ছা নিয়ে যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী, আলোচনায় মার্কিন পক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অন্যায্য আবদার এবং অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠকটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিনীদের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থার অভাবই শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াগুলো শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং এই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, গত ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইরান সফলভাবে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্রুত বিজয়ের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।

সংঘাত নিরসনে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার সূত্র ধরে ইসলামাবাদে দুই পক্ষ আলোচনায় বসেছিল। সেখানে ইরান সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি সম্বলিত ১০ দফা প্রস্তাব পেশ করলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই প্রতিনিধি দল তেহরানে ফিরে আসে।

বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং আলোচনার ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই ফোনালাপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে সৌদি আরব সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা শান্তি চায় কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখছে, সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই গভীর সংকট দূর করতে পারে কি না।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

হরমুজ ইস্যু

img

ইরানের সুবিধাজনক অবস্থানকে ‘একটু চালাকি’ বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:২১, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে ইরান ‘একটু বেশি চালাকি’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

আজ শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বলে জানায় দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ভালোভাবে’ এগোচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আবার এই প্রণালি বন্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি এবং আশা করছি দিনের শেষে এই বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।’

এদিকে শনিবার হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন।

তবে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার ওপর আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চমৎকার চলছে।’ তার এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার অন্তরালে এখনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে পরস্পরবিরোধী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইরানি অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত দিন এই আচরণ বজায় রাখবে, ইরান তত দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।’

তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও জনমানস সম্পর্কে খোশচেশম বলেন, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতিরোধের পক্ষে। তার দাবি, লাখ লাখ মানুষ প্রতি রাতে রাজপথে নেমে এসে এই ‘প্রতিরোধ’ জারি রাখার দাবি জানাচ্ছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অধ্যাপক বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা এই শ্রেষ্ঠত্ব বা আধিপত্য প্রমাণ করতে চায়।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর