img

কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, মৌলভীবাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত :  ১০:০৫, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০৮, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, মৌলভীবাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রিটেনে কেয়ার ভিসার নামে জাল অফার লেটার দেখিয়ে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ফতেহপুরের বাসিন্দা নাসির আহমদ শাহীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদরের নাদামপুরের বাসিন্দা রহিম চৌধুরী মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এই মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মামলার তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— একই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রুয়েজ আহমদ, টিবি হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সুহেনা সুলতানা ও সিলেটের ওসমানীনগরের চানপুরের সায়েম আহমদ।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে গত ৩০ মার্চ ওই মামলাটি করেন রহিম চৌধুরী।

তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের ভাগনে সায়েম আহমদের মাধ্যমে কেয়ার ভিসায় লোক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। শাহীন ভিসার জন্য ১৮ হাজার পাউন্ড দাবি করেন। আলোচনার মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার কথা। চুক্তিমতো ১৮ হাজার পাউন্ড তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। শাহীনের আত্মীয় সুহেনা দেশে টাকা গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ, ১০ লাখ, সাত লাখ ও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাদীর বোনও দেন দেড় হাজার পাউন্ড।

রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিন মাসের মধ্যে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা ছিল তাঁকে। নাসির আহমদ শাহীন সে দেশ থেকে একটি অফার লেটার প্রেরণ করেন। পরে তারা জানতে পারেন সেটি জাল। ফলে ভিসা হয়নি। আবার রিভিউ করার জন্য সাত মাস সময় নেন। সেই সময়ের মধ্যেও ভিসা করাতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তারা সময় ক্ষেপণ এবং এক পর্যায়ে তা অস্বীকার করেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে টাকা দাবি করলে প্রাণে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন।

বাদী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট নম্বরে (যা তার আপন বোন ও ভাগনার নামে) আমি টাকা দিয়েছি। যার যথাযথ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। পুরো লেনদেনটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের কথামতো হয়েছে।

রহিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নাসির আহমদ শাহীন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি বলে শুনেছি। তিনি আমাকে অনেক হয়রানি করছেন। আমি তার কারণে চরম পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির আহমদ শাহীন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন; বিষয়টি তাঁর ভাগনে দেখাশোনা করে। তিনি আরও বলেন, রহিম চৌধুরী কেয়ার ভিসার জন্য হাসপাতাল থেকে যে সনদ প্রদান করেন, সেটি সঠিক না হওয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তা দেখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় তাঁকে মামলার আসামি করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে জমির বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত, আহত অন্তত ২০

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলাস্থ বেগমপুর গ্রামে সরকারী জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়া (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর মিয়া ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং নবীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সরকারী জমিতে বসবাস করে আসছিলেন। একই গ্রামের হেলাল মিয়া ও মনিরুজ্জামান ওই জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে হেলাল ও মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে মঞ্জুর মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাফি মিয়া (৩২), মুজিবুর রহমান (৩২), শামিম মিয়া (৫০), মামুন মিয়া (৩১), জুনেদ মিয়া (২৮), রুহেল মিয়া (৩৮), ইমন মিয়া (১৭), কাউছার মিয়া (২২), জুয়েল আহমেদ (৩২)সহ আরও অনেকে। বাকিরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন। প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং ঘটনার দিন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, সরকারী জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর