img

ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশিত :  ০৬:২৯, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ

ভারত সরকার ইরানের সঙ্গে ভারতের কিছু বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার খবরের মধ্যেই দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের নতুন নির্দেশনা জারি করেছে । 

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট আকাশপথের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে নাগরিকদের প্রতি এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন আকাশপথ বা স্থলপথের কোনো মাধ্যমেই ইরান ভ্রমণে না যান। ইকোনমিক টাইমস অনলাইন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভারতীয় দূতাবাস তাদের নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। তবে এই প্রস্থান প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের অবশ্যই দূতাবাসের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থল সীমান্ত পথগুলো ব্যবহার করে নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে অগ্রসর না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে, কারণ এতে লজিস্টিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পশ্চিম এশিয়ায় আকাশসীমা ব্যবহারে যে বিধিনিষেধ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। 

দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিকদের সহায়তার জন্য একাধিক জরুরি যোগাযোগ নম্বর এবং ইমেল হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই অঞ্চলে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত সরকার পর্যায়ক্রমে এ ধরনের বেশ কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করে আসছে।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের আঁচ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ভারত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। 

এর আগে শান্তি আলোচনার ব্যর্থতা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সংকটের কথা উল্লেখ করে ভারত তার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত নেতানিয়াহু, জানালেন নিজেই

প্রকাশিত :  ১৪:১২, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রথমবারের মতো নিজের প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু । শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) তার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করার সময় তিনি জানান, গত ডিসেম্বর থেকেই তিনি এই মরণব্যাধির চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই তথ্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা অপপ্রচার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ না দিতেই তিনি এতকাল বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন।

৭৬ বছর বয়সী এই নেতা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে একটি অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অস্ত্রোপচারের কথা জানানো হলেও ক্যানসারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। 

সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, চিকিৎসকরা তার প্রস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালোন্যান্ট টিউমার বা মরণব্যাধি শনাক্ত করেছিলেন। তবে বর্তমান পরীক্ষাগুলোতে আর কোনো ক্ষতিকর কোষ বা সংক্রমণের লক্ষণ ধরা পড়েনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বিবৃতির পাশাপাশি তার চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে দুটি আনুষ্ঠানিক পত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রোগটি অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং এটি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত। 

নেতানিয়াহু নিজেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমি এখন সুস্থ। আমার প্রস্টেটে সামান্য একটি চিকিৎসাগত সমস্যা ছিল, যা এখন পুরোপুরি সেরে গেছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের ক্ষেত্রে দুই মাস দেরি করার বিষয়ে নেতানিয়াহু জানান, ইরান ও তার মিত্ররা যেন এই খবরকে ইসরাইলের দুর্বলতা হিসেবে প্রচার করতে না পারে, সেজন্যই তিনি সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছিলেন। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে নিজের শারীরিক অসুস্থতার খবর শত্রুপক্ষকে বাড়তি কোনো সুবিধায় দেবে না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। 

চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই তিনি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ঘোষণা দিলেন। বর্তমানে তিনি পূর্ণোদ্যমে তার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সূত্র: সিএনএন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর