ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি তেলবাহী ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অতিক্রম করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে পৌঁছেছে।
সেনবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সন্ত্রাসী সেনাদের বারংবার সতর্কবার্তা ও হুমকির পরেও, ইরানের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সহায়তায় তেল বহনকারী জাহাজ সিলিকা সিটি আরব সাগর থেকে গতকাল রাতে ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণের একটি বন্দরে নোঙর করেছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম গতকাল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ শুরুর পর থেকে মার্কিন বাহিনী ২৭টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করতে বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে ‘এম/টি টিফানি’ নামের একটি তেলের ট্যাঙ্কার দখল করে নিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে পেন্টাগনের (বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন যার নাম দিয়েছে যুদ্ধ মন্ত্রণালয়) নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয়।
মূলত ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবং দেশটিকে সাহায্য করা জাহাজগুলোর পথ আটকাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘পৃথিবীর নিকৃষ্টতম’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত
প্রকাশিত :
১১:৩৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৯, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীতিহীন বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রানচেসকা আলবানিজ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক ফিলিস্তিনি শিশুর ওপর ইসরায়েলি সেনাদের বর্বরোচিত নির্যাতনের দৃশ্য দেখার পর তিনি এই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
আলবানিজ তার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি সৈন্যদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং তারা পদ্ধতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সময় ‘জাতিগত নিধন’ চালানো হচ্ছে বলে আলবানিজ ইতিপূর্বে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উসকানিমূলক প্রচারণা শুরু হয়। এমনকি এই প্রতিবেদনের জেরে তিনি বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তার জীবন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং তিনি সবসময় এক ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আলবানিজ তার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ‘রোলার কোস্টার রাইডের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত মনে করেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড কেবল ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং পুরো বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজগুলো সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আলবানিজ বারবার দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি ইসরায়েলি বাহিনীর এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। তার জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নির্মম বাস্তবতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফ্রানচেসকা আলবানিজের এই মন্তব্য ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর নৈতিক অবস্থানকে বৈশ্বিক মঞ্চে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সমালোচকরা মনে করছেন, জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধির এমন সাহসী অবস্থান ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে, তবে একের পর এক ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনগুলো সত্যতার সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। আলবানিজ জানিয়েছেন, প্রাণনাশের হুমকি থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য প্রকাশে পিছপা হবেন না এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের দাবিতে তার লড়াই অব্যাহত রাখবেন।