img

সিলেটে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

প্রকাশিত :  ১০:১০, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সিলেটে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, মনু নদী, খোয়াই নদী ও জুড়ি নদীর পানি বেড়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়েছে। বর্তমানে নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সাম্প্রতিক মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় সতর্কসীমা ছুঁতে পারে পানি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও আগামীকাল তা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এ সংকেত দেখাতে বলা হয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সংযোগহীন সময়ের সেতু—পাঁচগাঁওয়ের শতবর্ষী ডিসপেন্সারির নীরব আর্তনাদ

প্রকাশিত :  ১২:০৫, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও—সবুজে ঘেরা এক নিভৃত জনপদ। এই শান্ত গ্রামের বুকেই দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী—কাশীচন্দ্র-আনন্দময়ী ডিসপেন্সারী। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের দক্ষিণ শ্রীহট্ট মহকুমার অন্তর্গত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি আজকের পাঁচগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পূর্বসূরি। সময়ের বিবর্তনে স্বাস্থ্যসেবা স্থানান্তরিত হয়েছে পাশের আধুনিক ভবনে, কিন্তু পুরোনো এই স্থাপনাটি যেন আটকে আছে অতীতের এক নিঃশব্দ প্রহরায়।

১৯৪১ সালের ১৬ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের সূচনালগ্নে, এই ডিসপেন্সারির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন আসাম প্রদেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের মন্ত্রী এবং কাছাড় জেলার হাইলাকান্দি থেকে নির্বাচিত বিধানসভার সদস্য শ্রীযুক্ত হীরেন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই ভবনের গায়ে এখনো শোভা পায় শ্বেতপাথরে খোদাইকৃত সেই স্মারক ফলক—যা ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, নীরবে জানিয়ে দেয় তার গৌরবগাথা।

একসময় এ অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার ভরসাস্থল ছিল এই ডিসপেন্সারী। গ্রামের অসংখ্য মানুষ এখানেই পেয়েছে সেবা, স্বস্তি ও সুস্থতার আশ্বাস। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যতই আধুনিকতা এগিয়েছে, ততই উপেক্ষিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। বর্তমানে এটি প্রায় পরিত্যক্ত—দেয়ালে ফাটল, ছাদের ক্ষয়, আর চারপাশে আগাছার দখল যেন তার অস্তিত্বকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে।

প্রায় এক শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি কেবল একটি পুরোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নয়; এটি শ্রীহট্ট অঞ্চলের সামাজিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এর স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যিক মূল্য।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই স্থাপনাটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ভবন নয়—এটি এক যুগের স্মৃতি, এক ইতিহাসের ধারক।

প্রশ্ন জাগে—এভাবেই কি একের পর এক শ্রীহট্টের ইতিহাসবাহী স্থাপনাগুলো হারিয়ে যাবে? নাকি এখনই সময়, অতীতকে বাঁচাতে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে আসার?

পাঁচগাঁওয়ের এই শতবর্ষী ডিসপেন্সারী আজও অপেক্ষায়—কারও নজর পড়বে, কেউ তার গল্প শুনবে, আর হয়তো একদিন আবার সে ফিরে পাবে তার হারানো মর্যাদা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর