img

অনারারি পদোন্নতি পাচ্ছে পুলিশ, পরিকল্পনায় ওভারটাইম ভাতা

প্রকাশিত :  ০৫:১৬, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৪৬, ১১ মে ২০২৬

অনারারি পদোন্নতি পাচ্ছে পুলিশ, পরিকল্পনায় ওভারটাইম ভাতা

পদের অভাবে পদোন্নতি পেতেন না পুলিশের সদস্যরা। সব যোগ্যতা থাকার পরও দীর্ঘ বছর একই পদে চাকরি শেষে ফিরতে হতো বাড়িতে। তবে এবার অবসরের আগে অনারারি পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালন করলে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার। এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পুলিশ হাসপাতালের মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে ট্রেনিং একাডেমিও তৈরিতে একমত হয়েছে সরকার।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ পুলিশ সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি মিলেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন, প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ কল্যাণ সভায় বসেন। রুদ্ধদ্বার ওই সভায় পুলিশ সদস্যরা তাদের নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে পুলিশ সদস্যদের কথা শোনেন এবং পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

রুদ্ধদ্বার ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যরা তদন্ত ব্যয় বিল বাড়ানো, কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত সদস্যদের মোটরসাইকেল কিনতে সুদমুক্ত ঋণ, কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত ওভারটাইম, অনারারি পদোন্নতি, স্বতন্ত্র পে-স্কেল, থানা-ব্যারাকের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, হাসপাতাল সার্ভিসসহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার কল্যাণ সভায় বলেন, মামলার তদন্তের বেশিরভাগ কাজ করেন থানার উপপরিদর্শকরা (এসআই)। কিন্তু তাদের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য যানবাহন অপ্রতুল। মামলার তদন্ত কাজে গতি আনতে ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমাধানে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ ও জ্বালানি খরচ দিলে তদন্ত কাজে গতি আসবে।

পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা ঝুঁকি ভাতা ও ওভারটাইম ভাতা দাবি করে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) একজন নারী কনস্টেবল অনারারি পদোন্নতির দাবি উত্থাপন করে বলেন, কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর একই জায়গা থেকে অবসরে যায়। এই অবসরের আগে অন্তত একটা র্যাংক পদোন্নতি দিলে সরকারের আর্থিক ভর্তুকিও লাগবে না।

কল্যাণ সভায় উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি দুর্বল শাসন কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আমাদের পক্ষে আপনাদের সব প্রত্যাশা কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবো না। পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের আবাসন সংকট সমাধান, মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রেশন এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।’

সরকার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কখনই পিছপা হবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের আস্থা অর্জন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন কোনো দলের নয়, বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা অবশ্যই আপনাদের দায়িত্ব।’

পুলিশের সাফল্য মানে এটি সরকারেরও সাফল্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এই মালিক যখন বিপদে পড়ে থানায় যায় সেখানে তারা আপনাদের আচরণে যেন কিছু হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ।’

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের হীন দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই অন্ধকারের সময় পেরিয়ে এখন সময় এসেছে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার। আমি মনে করি, জনগণের বিশ্বাস অর্জন এবং সেই বিশ্বাস বজায় রাখাই পুলিশের সামনে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ।’

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন একটি সুদক্ষ ও আধুনিক মানবিক পুলিশ বাহিনী ছাড়া জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই কঠিন কাজটিই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শুরু করেছে। সুতরাং সাধ্যের সবটুকু দিয়েই সরকার আপনাদের (পুলিশ বাহিনীর) চাওয়া-পাওয়াগুলো অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।’

কমিউনিটি পুলিশিং এবং ওপেন হাউস ডের মতো জনমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

সরকার একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল ও ফরেনসিক সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাসহ এ বিষয়গুলোকে আরও কার্যকর করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকার দেশে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।’

পুলিশ সদস্যদের দাবিগুলোর বিষয়ে কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীকে একটি জনকল্যাণমুখী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের আর্থিক সংগতি ও সক্ষমতা বিবেচনায় তাদের যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করে অবসর নিলেও পদোন্নতি পান না। সে জন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা সরকার ভাবছে। এ ক্ষেত্রে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদ পর্যন্ত ওভারটাইম ভাতা বিবেচনা করা হতে পারে।’

তিনি পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে বলে জানান।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূর করতে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।’

বিগত দুই মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। জুয়া, অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে আরও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের জন্য এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করা হবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনকে সংশোধন ও সংযোজন করে যুগোপযোগী করা হবে।’

কল্যাণ সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৫৮, ১১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০২, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও টেকসই রূপান্তর নিয়ে ইউজিসির জাতীয় কর্মশালা আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মশালা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।

ইউজিসির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ।

তিনি আরো জানান, উদ্বোধনী পর্বের পর পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেসব অধিবেশনে "গ্রাজুয়েটদের কর্মসংযোগযোগ্যতা, সফট স্কিল উন্নয়ন ও চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা; শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা; ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজন; শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং আন্তর্জাতিকীকরণ; গভর্ন্যন্স, মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা হবে।

কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত পথনকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান এই ইউজিসি কর্মকর্তা।

জাতীয় এর আরও খবর