img

সর্বজনীন পেনশন চাঙ্গা করতে নেওয়া হচ্ছে এডিবির ঋণ

প্রকাশিত :  ১৮:৩৬, ১২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০১, ১২ মে ২০২৬

সর্বজনীন পেনশন চাঙ্গা করতে নেওয়া হচ্ছে এডিবির ঋণ
সরকার স্থবির হয়ে পড়া সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে । এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা সহজশর্তে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ ঋণের পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকেও এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সভায় জানানো হয়, এডিবির অর্থায়নে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলছে। সরকারের আশা, এ অর্থায়ন পাওয়া গেলে দেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক শ্রমশক্তিকে পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। এ অর্থ ব্যবহার করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সেবার পরিধি বাড়ানো হবে।

দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনতে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কর্মসূচি চালু করায় শুরু থেকেই এর কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রথম দিকে জনগণের মধ্যে কিছু আগ্রহ দেখা গেলেও পরে সেই গতি ধরে রাখা যায়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনের মুখে সরকার সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ফলে সামগ্রিকভাবে এ কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।

আজকের সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব স্কিমে মোট জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সভায় আরও জানানো হয়, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। অন্যদিকে ভবিষ্যতে দেশে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার দ্রুত বাড়বে। এ বাস্তবতায় সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন অন্যতম অঙ্গীকার। এজন্য জনগণের আস্থা বাড়ানো, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগ ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

img

একনেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১১:১৫, ১৩ মে ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। 

সরকারি সূত্রে জানানো হয়, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। পরে ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই অনুমোদনকে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কমিশন কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, আগামী বাজেট ঘোষণার পরই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।