img

স্বল্পমূল্যের শেয়ারে কি ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ? বাজারে আস্থা ফেরার সঙ্গে বাড়তে পারে ১০ টাকার নিচের শেয়ারের কদর

প্রকাশিত :  ১২:৫৫, ০৬ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বল্পমূল্যের শেয়ারে কি ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ? বাজারে আস্থা ফেরার সঙ্গে বাড়তে পারে ১০ টাকার নিচের শেয়ারের কদর

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যহ্রাসের কারণে অনেক কোম্পানির শেয়ার ১০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। একসময় যেসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় ছিল, বাজারের মন্দাভাব, আস্থার সংকট এবং তারল্য সংকটের কারণে সেগুলোর অনেকগুলো এখন নামমাত্র দামে লেনদেন হচ্ছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমূল্যের কিছু শেয়ার আগামী দিনে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুঁজিবাজারে যখন ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়, তখন সাধারণত কম দামি শেয়ারগুলোতে প্রথমে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যায়। তুলনামূলকভাবে কম মূলধন নিয়ে বেশি সংখ্যক শেয়ার কেনার সুযোগ থাকায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারের প্রতি আকৃষ্ট হন। ফলে বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করলে ১০ টাকার নিচে থাকা শেয়ারগুলোর দামও দ্রুত বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাজার সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কারণে ইতিবাচক প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাব বাজারে ধীরে ধীরে প্রতিফলিত হলে দীর্ঘদিন অবমূল্যায়িত অবস্থায় থাকা কিছু শেয়ারের মূল্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পেতে পারে।

তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, ১০ টাকার নিচে থাকা সব শেয়ারই যে ভালো বিনিয়োগ হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেক কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি দুর্বল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত কিংবা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কম দাম দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, যেসব কোম্পানির মৌলভিত্তি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলো বেশি লাভজনক হতে পারে। অন্যদিকে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

পুঁজিবাজারের ইতিহাস বলছে, প্রতিটি পুনরুদ্ধার পর্বে কিছু অবমূল্যায়িত শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য মুনাফার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমান বাজারেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বাজারে আস্থা ও তারল্য বাড়লে ১০ টাকার নিচে থাকা নির্বাচিত কিছু শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলো আগামী দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করাই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়।

img

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশিত :  ০৭:১২, ০৬ জুন ২০২৬

দেশের স্বর্ণের বাজারে বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েছে । তেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, সবশেষ গত ২ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৭ দফা বাড়ানো হয়েছে। কমানো হয়েছে ৩৪ দফা।

এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দাম। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের রুপার দাম পড়বে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সবশেষ গত ২ জুন সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪২ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২২ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ২০ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

অর্থনীতি এর আরও খবর