নিয়োগ পেলেন ৩ কমিশনারও

img

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

প্রকাশিত :  ১০:০৯, ০৪ জুন ২০২৬

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের খ্যাতনামা করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাসুদ খান। একই সাথে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিতে তিন নতুন কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে চার বছরের জন্য এ নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে আজ সকালেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিএসইসির সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ পাঁচ সদস্যের পুরো কমিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেয়।

নতুন নিয়োগ পাওয়া তিন কমিশনার হলেন—ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাহিদ মাহতাব এবং আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান। কমিশনের অপর একটি কমিশনার পদ আপাতত শূন্য রাখা হয়েছে।

সুশাসন, ফিন্যান্স এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ৭১ বছর বয়সী মাসুদ খানকে বিএসইসিতে যুক্ত করতে সম্প্রতি আইনি সংস্কার এনেছে সরকার। পূর্বে আইন অনুযায়ী বিএসইসির চেয়ারম্যান পদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর থাকলেও গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে এই বয়সসীমা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। যার ফলে এই প্রবীণ করপোরেট লিডারের বিএসইসি প্রধান হওয়ার পথ সুগম হলো।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী মাসুদ খানকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

মাসুদ খান বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়া ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও তিনি যুক্ত আছেন।

আজ বিকেল তিনটায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে। 

img

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ, সুদের হার ৭%

প্রকাশিত :  ১৮:৫১, ০৪ জুন ২০২৬

বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ সুবিধা পাবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে সুদের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ, যা বর্তমান বাজার হারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রজ্ঞাপনে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালা ঘোষণা করে। এর আগে গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। এতে সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানি ও ব্যাংক পাবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

মূলত ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

এই ঋণ পাবে কারা 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও শুধু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। এই সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হতে সক্ষম, তারা এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পাবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী খেলাপি হওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না।

ঋণের নীতিমালা

একটি একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে, অর্থাৎ প্রথম ৬ মাস পর থেকে সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার হিসাবে দিতে হবে। কোনোভাবেই নগদ লেনদেন করা যাবে না। এই ঋণ দিয়ে আগের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না।

আদায় ও তদারকি 

নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ হবে। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে।

গ্রাহকের সব ব্যবসায়িক আয়-ব্যয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে বড় অবদান রাখা গ্রাহক ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।