img

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানিতে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ অন্তত ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আইনি জটিলতা কাটিয়ে শুল্ক নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় এই প্রস্তাব করেছে। এক সরকারি নথির বরাত দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

নতুন এ প্রস্তাব এসেছে এমন সময়ে, যখন গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।

তবে প্রস্তাবিত শুল্ক থেকে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া পোশাক ও বস্ত্রখাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য অব্যাহতির বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট নয়।



img

গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার

প্রকাশিত :  ১২:০০, ০৩ জুন ২০২৬

তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এতে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে বাড়ল ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আলোচনা-পর্যালোচনা ও গণশুনানির পর বিদ্যুতের উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে সরকারের ভর্তুকি প্রদান এবং সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ দাম বাড়ানো হয়।

তিনি জানান, বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি পাইকারি দাম ৭ টাকা থেকে ১ দশমিক ৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা নির্ধারণের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে দশমিক ০৭৫১ বাড়িয়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে হবে ৩৯ পয়সা।

গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ টাকা। ৯ দশমিক ১১ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১০ দশমিক ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।