বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানিতে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ অন্তত ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। আইনি জটিলতা কাটিয়ে শুল্ক নীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় এই প্রস্তাব করেছে। এক সরকারি নথির বরাত দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।
গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নতুন এ প্রস্তাব এসেছে এমন সময়ে, যখন গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
তবে প্রস্তাবিত শুল্ক থেকে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া পোশাক ও বস্ত্রখাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য অব্যাহতির বিষয়গুলো এখনও স্পষ্ট নয়।



















