img

চাল-ডাল থেকে ক্যামেরা, ৬০ পণ্যের দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

প্রকাশিত :  ১৬:৩৭, ১০ জুন ২০২৬

চাল-ডাল থেকে ক্যামেরা, ৬০ পণ্যের দাম কমানোর পরিকল্পনা বাজেটে

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে, তাতে চাল-ডাল, আলু থেকে সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার মতো ৬০টি প্রযুক্তি ও কৃষি পণ্যের দাম কমতে পারে। এসব পণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশকালে এ প্রস্তাব করতে পারেন।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, সরকার এই ৬০টি পণ্যের তালিকায় মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা জনজীবনে স্বস্তি আনবে বলে আশা করছে সরকার।

নিত্যপণ্যের বাইরেও সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার প্রস্তাব করা হচ্ছে বাজেটে। এরমধ্যে শিশুখাদ্য আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, বাজেটে জীবন রক্ষাকারী হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা কমতে পারে। কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৮০০ টাকা কমবে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর থাকা কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। পাশাপাশি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে।

বিনোদন ও সংস্কৃতিখাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনের মতো বাদ্যযন্ত্র এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরার শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।

সরকারের এই নতুন রাজস্ব নীতি মূলত করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই কর ছাড়ের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমিত হবে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সেই মাহদীকে মারধর, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:৪৫, ১১ জুন ২০২৬

ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়া হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব ও সাবেক সমন্বয়ক মাহাদী হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তেকে মাধর করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ মাহদীর।

আগের দিনের ধাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতেই বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহদী হাসানের ফেসুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওতে এই হামলা ও মারধরের অভিযোগ করা হয়। ভিডিওতে মাহদীর পাঞ্জাবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া তাকে কান্না করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে একজন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মাহদীকে ধাওয়া করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিসিটিভি ঢুটেজে এ দৃশ্যধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তথ্য অধিকারে আবেদন করেন। এই আবেদন করে বের হওয়ার পরই তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে।

ভিডিওতে জানানো হয়, হামলায় আহত মাহদীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তবে হামলার কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিঙ্গনের দাবি, ছাত্রদলের কেউ হামলা চালায়নি।

এর আগে বুধবার ছাত্রদলের কর্মীরা ধাওয়া করছে অভিযোগ করে মাহাদী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন।

প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে ধাওয়া করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং প্রাণভয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই কি না। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে ও রিকশায় চড়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রবেশ করেন এবং ডিউটি অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

মাহাদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষাংশে তিনি জানান, তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মাহাদীর দাবি, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহাদী আরও দাবি করেন, তিনি আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বুধবার জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহাদী হাসানের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য তারা জেনেছেন।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভিডিওটি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদলের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। মাহাদীও নির্দিষ্ট করে কাউকে দেখাতে পারেননি।’

জাহিদ হোসেন জানান, মাহদী হাসান মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

জাতীয় এর আরও খবর