img

১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাতে

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ১১ জুন ২০২৬

১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাতে

বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক খাতে শতভাগ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপক কর-সুবিধার আওতায় ভোজ্য তেল উৎপাদন খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম ৫ বছর ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হতে পারে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় দেশীয় শিল্প এবং জনকল্যাণমূলক সেবায় এই বড় ছাড়ের ঘোষণা দিতে পারেন।

বাড়তি বরাদ্দ নেই বাজেটে, তবু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুসংবাদ পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের ২ বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। 

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব ধরনের শুল্ক ও কর ১০০ শতাংশ মওকুফ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাতে এবং তরুণদের উৎসাহিত করতে বাজেটে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণরূপে (১০০ শতাংশ) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে।

এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ আরো সাশ্রয়ী হবে।

এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতেও সমুদয় শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে, যা প্রতিটি ডায়ালিসিসের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমিয়ে দেবে।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতির আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর ১০০ শতাংশ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।


img

দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১২:৫২, ১১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৩১, ১১ জুন ২০২৬

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে ‘ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ঋণ কেলেঙ্কারি’ ও আর্থিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনর্মূলধনীকরণ এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো হবে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে সরকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, গত দুই দশকে ব্যাংকিং খাতে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত কমে ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমেছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমেছে, যা আর্থিক খাতের স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা হবে, যাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

এছাড়া নারী, তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

সবশেষে তিনি বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।