img

পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কী হবে, জানালেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত :  ০৫:৫৮, ১২ জুলাই ২০২৬

পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কী হবে, জানালেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ ও প্রাপ্য আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন (ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন) পদ্ধতির ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার লক্ষ্যে \'শেয়ার শূন্য\' ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান যে- সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে সেটি \'হিসাব-নিকাশ\' করা হচ্ছে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি৷ ওই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান কমিশন কি ধরনের ভূমিকা রাখবে?

জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “ওই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার আগে আমি একটা ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই। হোয়াট ইজ দ্য ভ্যালু অফ দিস শেয়ার? ওই পাঁচটি ব্যাংকের নেগেটিভ নিট ইকুইটি ছিল কিনা? উত্তর- ছিল। অর্থাৎ লস মেকিংয়ে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল। ইন দিস কেসেস ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন মেথলজি কি বলছে? যদি কোনো কোম্পানি লস মেকিং হয় আমরা শেয়ারকে মূল্যায়ন করবো বেসড অন দ্য নেটওয়ার্কস, অন্য দিকে তাকাবো না। তাহলে নেটওয়ার্ক যদি নেগেটিভ হয়, ভ্যালুয়েশন কি হবে? উত্তরটা হবে ‘জিরো’।”

তিনি বলেন, \'আপনি (বিনিয়োগকারী) তো জেনে-শুনে ইনভেস্ট করছেন। আজকে যদি ওই ব্যাংকগুলো খোলাও থাকতো তাহলে হয়তো ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা দিয়ে লেনদেন করতে হতো। এর বেশি হয়তো আপনি পেতেন না। আপনি হয়তো ২০ টাকা বা ১৫ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু, ওভার দ্য ইয়ারস এগুলোর পারফরমেন্স ডিউ (বকেয়া) হয়ে গেছে। ফলে এগুলো পাঁচটাকা, একটাকা, দুই টাকা হয়ে গেছে। হয়তো আপনি সেটাই পেতেন। কিন্তু সেটাও পাওয়ার কথা নয়। কারণ এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল।\'

ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদকের দ্বিতীয় প্রশ্ন- সম্প্রতি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যেই কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, সেগুলো তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক তালিকাভুক্ত অনেকগুলো ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের দিকে এগোচ্ছে৷ এসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত করা হলে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে কিনা?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেন, ‘একই উত্তরটা আপনি পাবেন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের কী অবস্থা আপনি বলেন তো? এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটির পরিমাণ হিসাব ছাড়া। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপল লিজিং- এসব কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক কি আছে? এগুলো জিরোর থেকেও অনেক কম।’

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে ডলারের দাম

প্রকাশিত :  ১৯:৫০, ১২ জুলাই ২০২৬

বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় রোববার আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার ১৩ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তঃব্যাংকে দাম বাড়ার কারণে গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো এর দাম বাড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে আমদানি খাতে ডলার বিক্রি হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। 

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। 

রোববার সর্বোচ্চ দাম ১৫ পয়সা বেড়ে ১২৩ টাকায় উঠেছে। তবে সর্বনিম্ন দাম ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সর্বোচ্চ দামে বেশির ভাগ ডলার লেনদেন হওয়ায় গড় দামও বেড়ে ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সায় উঠেছে। আগে গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে গড় হিসাবে দাম বেড়েছে ১৩ পয়সা। 

আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম বাড়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও এর দাম কিছুটা বাড়িয়েছে। আগে বেশির ভাগ ব্যাংক ১২৩ টাকা ৬০ থেকে ৬৫ পয়সা দরে আমদানি খাতে ডলার বিক্রি করত। এখন তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৭৫ থেকে ৮০ পয়সায় উঠেছে। কয়েকটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরেও আমদানি খাতে ডলার বিক্রি করেছে। 

এর আগে গত মাসের শেষদিকে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায় উঠেছিল। 

এদিকে ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশের আমদানি ব্যয়, আমদানি পণ্যের দাম ও বৈদেশিক দায়-দেনার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব খাতে আরও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। 

ডলারের দাম এমন সময় বাড়ানো হচ্ছে যখন নতুন ঋণ চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশে সফল করছে আইএমএফ মিশন। তারা বরাবরই বলে আসছে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী ডলারের দাম কম। এটি আরও বাড়ানো উচিত। এজন্য তারা ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাদের মৌলিক শর্তগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। 

এদিকে ঢাকা সফররত আইএমএফ মিশন রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে কয়েকদফা বৈঠক করেছে। এসব বৈঠক পরিচিতিমূলক ছিল বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। 

তবে বৈঠকে সংস্থাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বেশকিছু তথ্য চেয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে পরবর্তীতে আরও বৈঠক করবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর