img

ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও আমানতের নিরাপত্তা চেয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৮:০৪, ০৬ জুলাই ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন ও আমানতের নিরাপত্তা চেয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পুনর্বহালের দাবিতে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন ‘ইসলামি ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বায়ক নুরনবী মানিক।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তাসহ যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ২৪ মে থেকে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরা মানববন্ধন করেছি, অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের উপযোগী একটি পর্ষদ গঠন ও ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এত দিনে শুধু ফ্যাসিস্টদের দোসর, ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে। সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও সংসদে বিল উত্থাপন করে তা এখনো বাতিল করা হয়নি।’

নুরনবী মানিক আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কিন্তু ব্যাংকটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আগে আমরা যে সাত দফা দাবি পেশ করেছি, তার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার, লুটকারীদের বিচার ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্বহালের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গ্রাহকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন নুরনবী মানিক। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ, ১৪ জুলাই জেলা শহরের শাখাগুলোর সামনে অবস্থান এবং ১৮ জুলাই শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশ।

img

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৫৩, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৫৮, ০৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ- সবই বাংলাদেশে আসছে। বাজেট প্রথমত বাংলাদেশের জন্য। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে, সেটিকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে এবং সেই সম্ভাবনাগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাব গড়তে বড় পরিকল্পনা রয়েছে, এজন্য বিদেশি বিনিয়োগও আসছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সম্ভাবনার খাত অনেক বেশি। কারণ, এখানে বন্দর আছে। শুধু সমুদ্রবন্দর নয়, চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রামকে একটি লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রতিফলন এবারের বাজেটে রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। বন্দরগুলো আরও বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি কঠিন কাজ। বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। আগে এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজ প্রমুখ।