img

পাঁচ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১১:৩৪, ২৯ জুন ২০২৬

পাঁচ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

\'হেয়ার কাট\' নীতি বাতিল ও চুক্তি অনুযায়ী আমানতের টাকা ফেরতসহ পাঁচ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছেন শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের সামনে \'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ\' ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারির এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করা হয়েছে। এর বদলে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাখো সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আমানতকারী আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমানতকারীদের বড় অংশই অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী, প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। পেনশনের অর্থ, জমি বিক্রির টাকা কিংবা প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় এসব ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জমানো টাকা তুলতে না পারায় অনেক পরিবার চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যদিনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিক্ষোভ থেকে আন্দোলনকারীরা তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—\'হেয়ার কাট\' নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী মূল টাকা ও অর্জিত মুনাফা পরিশোধ, পাঁচটি ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চালু করা এবং তারল্য সংকট নিরসনে বিশেষ সহায়তা প্রদান। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ এবং ঘোষিত নতুন মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখার দাবি জানান তারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে তারা সরকারের নীতিনির্ধারক ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ব্যাংকগুলোর শাখা পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচি, কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।

img

বন্ধ থাকা ২৫ রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের ১৫টি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: বস্ত্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৭:০৪, ২৯ জুন ২০২৬

দেশে বর্তমানে সুতা উৎপাদন, বয়ন এবং রং ও সমাপ্তিকরণ প্রক্রিয়াসহ মোট ১ হাজার ৮০৫টি বস্ত্রকল এবং ২৬৬টি পাটকল চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার (২৯ জুন) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৭৮০টি সুতা, বয়ন ও ডাইং-ফিনিশিং মিল পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাটকলের মোট সংখ্যা ২৬৬টি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ১৯৩টি পাটকল চালু এবং ৭৩টি পাটকল বন্ধ রয়েছে।’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর অংশ হিসেবে বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের মধ্যে ১৫টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চারটি বস্ত্রকলের জন্য নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি সই ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি বস্ত্রকলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’

‘এছাড়া আরও ১১টি বন্ধ বস্ত্রকল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির অধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।’

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাটকলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাকি মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব মিলেও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’

এছাড়া, এমএম জুট মিলস লিমিটেডে বিজেএমসির ব্যবস্থাপনায় একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অন্তর্ভুক্ত লতিফ বাওয়ানি জুট মিলস লিমিটেড ও করিম জুট মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া ইজারার বাইরে থাকা আরও তিনটি পাটকলের মধ্যে আমিন জুট মিল সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে পড়েছে ও অন্য দুটি পাটকল মামলাজনিত কারণে ইজারার বাইরে রাখা হয়েছে।