img

সামনের পথ কি সিমেন্ট খাতের?—উন্নয়নের গতিপথে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান

প্রকাশিত :  ১৫:৫৩, ২৯ জুন ২০২৬

সামনের পথ কি সিমেন্ট খাতের?—উন্নয়নের গতিপথে নতুন সম্ভাবনার সন্ধান

✍️ রেজুয়ান আহমেদ 

একটি দেশের উন্নয়নের গল্প কেবল প্রবৃদ্ধির শতকরা হার দিয়ে লেখা হয় না। সেই গল্প ফুটে ওঠে নতুন সড়কে, সেতুর ওপর ছুটে চলা যানবাহনে, সম্প্রসারিত বন্দরে, গড়ে ওঠা শিল্পাঞ্চলে এবং প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া শহরের আকাশরেখায়। উন্নয়নের এই দৃশ্যমান পরিবর্তনের নেপথ্যে যেসব শিল্প নীরবে ভূমিকা রাখে, সিমেন্ট শিল্প তাদের অন্যতম।

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের বিস্তার দেশের উৎপাদনশীলতাকে নতুন ভিত্তি দিয়েছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে নির্মাণশিল্পের সম্পর্ক যেমন অবিচ্ছেদ্য, তেমনি নির্মাণশিল্পের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে সিমেন্ট শিল্পের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।

অর্থনীতির গতি যখন বাড়ে, তখন নির্মাণকাজও সাধারণত বৃদ্ধি পায়। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো, কিংবা যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ—সব ক্ষেত্রেই সিমেন্টের ব্যবহার অপরিহার্য। সে কারণেই অনেক অর্থনীতিবিদ সিমেন্ট শিল্পকে উন্নয়নের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচনা করেন।

২০২৬–২০২৭ অর্থবছরকে ঘিরে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী আলোচনা রয়েছে। পরিকল্পিত সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, বেসরকারি বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর সুফল সিমেন্ট শিল্পও পেতে পারে। তবে এটি সম্ভাবনার একটি বিশ্লেষণমাত্র; বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে অর্থনৈতিক পরিবেশ, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, দীর্ঘমেয়াদে যে শিল্প দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেই শিল্পের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এখানেও সতর্কতার বিকল্প নেই। কোনো কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ভবিষ্যতে অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে—এমন নিশ্চিত দাবি করার সুযোগ নেই। শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয় কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক সাফল্য, বাজারের চাহিদা ও জোগান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে।

তাই বিচক্ষণ বিনিয়োগের ভিত্তি হওয়া উচিত তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। গুজবের পরিবর্তে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর স্বল্পমেয়াদি মূল্য ওঠানামার পরিবর্তে ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকেই একজন সচেতন বিনিয়োগকারীর বিবেচনায় রাখা উচিত।

বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা এখনও শেষ হয়নি; বরং সামনে রয়েছে আরও বিস্তৃত সম্ভাবনার দ্বার। সেই পথচলায় সিমেন্ট শিল্পও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে আশাবাদ তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তার ভিত্তি থাকে বাস্তবতা, সুশাসন, উৎপাদনশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর।

সুতরাং, সিমেন্ট খাতকে ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা থাকতেই পারে। তবে সেই প্রত্যাশা হতে হবে তথ্যনির্ভর, সংযত এবং বাস্তবসম্মত। কারণ, সুস্থ পুঁজিবাজার এবং শক্তিশালী শিল্পভিত্তিই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও টেকসই, গতিশীল ও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।

img

বন্ধ থাকা ২৫ রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের ১৫টি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: বস্ত্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৭:০৪, ২৯ জুন ২০২৬

দেশে বর্তমানে সুতা উৎপাদন, বয়ন এবং রং ও সমাপ্তিকরণ প্রক্রিয়াসহ মোট ১ হাজার ৮০৫টি বস্ত্রকল এবং ২৬৬টি পাটকল চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ সোমবার (২৯ জুন) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সদস্য হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৭৮০টি সুতা, বয়ন ও ডাইং-ফিনিশিং মিল পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলসহ দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাটকলের মোট সংখ্যা ২৬৬টি।

মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ১৯৩টি পাটকল চালু এবং ৭৩টি পাটকল বন্ধ রয়েছে।’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর অংশ হিসেবে বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের মধ্যে ১৫টি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চারটি বস্ত্রকলের জন্য নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি সই ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি বস্ত্রকলে উৎপাদন শুরু হয়েছে।’

‘এছাড়া আরও ১১টি বন্ধ বস্ত্রকল পিপিপি পদ্ধতিতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির অধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।’

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ পর্যন্ত ১৪টি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি পাটকলে ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাকি মিলগুলো পর্যায়ক্রমে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব মিলেও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।’

এছাড়া, এমএম জুট মিলস লিমিটেডে বিজেএমসির ব্যবস্থাপনায় একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অন্তর্ভুক্ত লতিফ বাওয়ানি জুট মিলস লিমিটেড ও করিম জুট মিলস লিমিটেডকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া ইজারার বাইরে থাকা আরও তিনটি পাটকলের মধ্যে আমিন জুট মিল সিটি করপোরেশন এলাকার মধ্যে পড়েছে ও অন্য দুটি পাটকল মামলাজনিত কারণে ইজারার বাইরে রাখা হয়েছে।