বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন
চলতি বছরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের জেরে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিনিয়োগকারীরা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে যায়। এতে প্রতি আউন্স ৪,০৬১.৩৫ ডলারে নেমে আসে। আগস্ট মাসের ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সও ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,০৭৬.৪০ ডলারে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ মাসের মতো স্বর্ণের মাসিক দরপতনের পথে রয়েছে বাজার, যেখানে মোট পতন প্রায় ১০.৪ শতাংশ।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক হামলার ঘটনায় তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদহার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির চুক্তি না মানলে ইরানের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
তবে একই দিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক সংঘাত বন্ধ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদহার বাড়ানোর দিকে ঠেলে দেয়। আর সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
স্বর্ণের দাম কমার পাশাপাশি স্পট সিলভারের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮.৫১ ডলারে নেমেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩০.১৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১,২১৮.৯২ ডলারে পৌঁছেছে।


















