বিবিসিসিআই নির্বাচন: মহিব উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এবং মোসলেহ আহমদ ডিজি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত
উন্নত ও প্রভাবশালী চেম্বারের স্বপ্ন নিয়ে নতুন নেতৃত্ব
লন্ডন, ২৩ জুন ২০২৬: যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আজ ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মহিব চৌধুরী এবং ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজি) পদে বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা মোসলেহ আহমদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
১৫ জুন ছিলো মনোনয়ন দাখিল এবং ১৭ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ফাইন্যান্স ডিরেক্টর পদে চেম্বারের বর্তমান ডাইরেক্টর হেলাল খান ও আবুল কালাম আজাদ নমিনেশন দাখিল করায় শুধু এই পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আবুল কালাম আজাদ ১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। হেলাল খান পেয়েছেন ১৫ ভোট।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, প্রেসিডেন্ট - মহিব চৌধুরী, ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজি) - মোসলেহ আহমদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট - প্রফেসর ড. সানাওয়ার চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট - আব্দুল ওয়েস চৌধুরী, মেম্বারশিপ ডাইরেক্টর -মোস্তাফা আহমদ লাকী, ডাইরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স - গোলাম কিবরিয়া ওয়েস এবং ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল - আব্দুল মুমিন।
পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসছেন মোসলেহ আহমদ
মুসলেহ আহমেদ একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা। তিনি ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
বিবিসিসিআই-এর ডিজি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলেহ আহমেদ বিবিসিসিআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিবিসিসিআইকে আরও গতিশীল ও প্রভাবশালী সংগঠনে রূপান্তরিত করতে হবে, যা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।
তিনি বলেন, "বিবিসিসিআই-এর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে সহায়তার একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বিবিসিসিআইকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।"
ডিজি হিসাবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: সুশাসন ও জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা, সদস্য সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, প্রতিটি সদস্যের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন সুযোগ তৈরি ও সম্পর্ক গড়া, উদ্যোক্তা সহায়তা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন, আন্তর্জাতিক প্রোফাইল উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার।
মুসলেহ আহমেদ বিবিসিসিআই-এর সদস্যদের জন্য কার্যকর সুবিধা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- কৌশলগত অংশীদারিত্ব গঠন, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সুযোগ তৈরি, বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পরিচালনা, মেন্টরিং প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পেশাদার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবসায়িক নেতাদের জন্য একজন দৃঢ় সমর্থক হিসেবে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, "বিবিসিসিআই এমন একটি সংগঠন হওয়া উচিত যেখানে প্রতিটি সদস্য প্রতিনিধিত্বশীল, মূল্যবান ও ক্ষমতায়িত অনুভব করেন। একসঙ্গে কাজ করলে আমরা একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ চেম্বার গড়তে পারি, যা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে অর্থবহ অবদান রাখবে।"
মুসলেহ আহমেদ আরও জানান যে, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং সদস্য-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব হবে তাঁর কর্মপদ্ধতির মূল ভিত্তি। এই নীতিগুলো নিশ্চিত করবে যে বিবিসিসিআই তার সদস্যদের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকবে এবং একইসাথে তার প্রভাব ও কার্যকারিতা আরও বিস্তৃত করতে পারবে।
তিনি সকল অংশীদারদের ঐক্য, অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
তাঁর ভাষায়, "আমার প্রতিশ্রুতি হলো একটি শক্তিশালী বিবিসিসিআই গড়ে তোলা, যা শুধু আজকের ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে সেবা দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুযোগ তৈরি করবে। একসঙ্গে আমরা বিবিসিসিআইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।"
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিটিশ জাজ নজরুল খসরু। কমিশনার হিসেবে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং ড. জাকির খান।
নির্বাচনের পর নতুন কমিটি শূন্য পদগুলোতে ডাইরেক্টরদের কো-অপ্ট করবে বলে জানা গেছে।



















