img

বিবিসিসিআই নির্বাচন: মহিব উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এবং মোসলেহ আহমদ ডিজি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

প্রকাশিত :  ১২:৪২, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:১২, ২৪ জুন ২০২৬

উন্নত ও প্রভাবশালী চেম্বারের স্বপ্ন নিয়ে নতুন নেতৃত্ব

বিবিসিসিআই নির্বাচন: মহিব উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এবং মোসলেহ আহমদ ডিজি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

লন্ডন, ২৩ জুন ২০২৬: যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আজ ২৩ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মহিব চৌধুরী এবং  ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজি) পদে বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা মোসলেহ আহমদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

১৫ জুন ছিলো মনোনয়ন দাখিল এবং ১৭ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ফাইন্যান্স ডিরেক্টর পদে চেম্বারের বর্তমান ডাইরেক্টর হেলাল খান ও আবুল কালাম আজাদ নমিনেশন দাখিল করায় শুধু এই পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আবুল কালাম আজাদ ১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। হেলাল খান পেয়েছেন ১৫ ভোট। 

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন, প্রেসিডেন্ট - মহিব চৌধুরী, ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজি) - মোসলেহ আহমদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট - প্রফেসর ড. সানাওয়ার চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট - আব্দুল ওয়েস চৌধুরী, মেম্বারশিপ ডাইরেক্টর -মোস্তাফা আহমদ লাকী, ডাইরেক্টর ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স - গোলাম কিবরিয়া ওয়েস এবং ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল - আব্দুল মুমিন।

পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসছেন মোসলেহ আহমদ

মুসলেহ আহমেদ একজন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা। তিনি ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।

বিবিসিসিআই-এর ডিজি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলেহ আহমেদ বিবিসিসিআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে প্রবৃদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিবিসিসিআইকে আরও গতিশীল ও প্রভাবশালী সংগঠনে রূপান্তরিত করতে হবে, যা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, "বিবিসিসিআই-এর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ উভয় দেশের ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে সহায়তার একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বিবিসিসিআইকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।"

ডিজি হিসাবে তাঁর মূল অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে: সুশাসন ও জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা, সদস্য সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, প্রতিটি সদস্যের কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন সুযোগ তৈরি ও সম্পর্ক গড়া, উদ্যোক্তা সহায়তা, তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন, আন্তর্জাতিক প্রোফাইল উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার।

মুসলেহ আহমেদ বিবিসিসিআই-এর সদস্যদের জন্য কার্যকর সুবিধা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- কৌশলগত অংশীদারিত্ব গঠন, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সুযোগ তৈরি, বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পরিচালনা, মেন্টরিং প্রোগ্রাম পরিচালনা এবং পেশাদার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আয়োজন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবসায়িক নেতাদের জন্য একজন দৃঢ় সমর্থক হিসেবে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, "বিবিসিসিআই এমন একটি সংগঠন হওয়া উচিত যেখানে প্রতিটি সদস্য প্রতিনিধিত্বশীল, মূল্যবান ও ক্ষমতায়িত অনুভব করেন। একসঙ্গে কাজ করলে আমরা একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ চেম্বার গড়তে পারি, যা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে অর্থবহ অবদান রাখবে।"

মুসলেহ আহমেদ আরও জানান যে, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং সদস্য-কেন্দ্রিক নেতৃত্ব হবে তাঁর কর্মপদ্ধতির মূল ভিত্তি। এই নীতিগুলো নিশ্চিত করবে যে বিবিসিসিআই তার সদস্যদের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকবে এবং একইসাথে তার প্রভাব ও কার্যকারিতা আরও বিস্তৃত করতে পারবে।

তিনি সকল অংশীদারদের ঐক্য, অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

তাঁর ভাষায়, "আমার প্রতিশ্রুতি হলো একটি শক্তিশালী বিবিসিসিআই গড়ে তোলা, যা শুধু আজকের ব্যবসায়িক কমিউনিটিকে সেবা দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সুযোগ তৈরি করবে। একসঙ্গে আমরা বিবিসিসিআইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।"

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিটিশ জাজ নজরুল খসরু। কমিশনার হিসেবে ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী এবং ড. জাকির খান।

নির্বাচনের পর নতুন কমিটি শূন্য পদগুলোতে ডাইরেক্টরদের কো-অপ্ট করবে বলে জানা গেছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডন মেয়রের এফোর্ডেবল হাউজিংয়ের কোটা কমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টাওয়ার হ্যামলেটসসহ ৭ কাউন্সিলের আইনি চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত :  ১৭:১১, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২০, ২৪ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনি এবং লুইশাম -লন্ডনের এই তিনটি কাউন্সিল একসাথে মেয়র অব লন্ডনের পরিকল্পিত সাশ্রয়ী আবাসনের (এফোর্ডেবল হাউজিং) কোটা ৩৫% থেকে ২০%-এ কমানোর সিদ্ধান্ত ঠেকাতে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করেছে।

মোট সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন করছে। এর মধ্যে ল্যাম্বেথ, সাউদার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট এবং হ্যারিঙ্গে কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনি চ্যালেঞ্জের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হাইকোর্টে দাখিল করা এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটিকে প্রদান করা জুডিশিয়াল রিভিউ (বিচারিক পর্যালোচনা) আবেদনের সাথে সংযুক্ত প্রমাণাদিতে তুলে ধরা হয়েছে যে, লন্ডনের মেয়রের এই নীতি স্থানীয় কাউন্সিলগুলির তাদের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রায় সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

লন্ডনের সাতটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনে করা এই আইনি চ্যালেঞ্জটি মূলত মেয়র অব লন্ডন-এর সেই প্রচেষ্টাকে ঘিরে, যেখানে তিনি প্রস্তাবিত লন্ডন প্ল্যানে থাকা বর্তমান ৩৫% সাশ্রয়ী (এফোর্ডেবল) বাসস্থানের কোটা কমাতে চেয়েছেন। কিন্তু এই পরিবর্তনটি করার জন্য যে আইনি বা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা দরকার, তা তিনি ঠিকভাবে অনুসরণ করেননি -এই অভিযোগই এখানে তোলা হয়েছে।

এছাড়াও, নীতিগত এই পরিবর্তনের আগে সঠিক ও ন্যায্য পরামর্শ (কনসালটেশন) করা হয়নি বলেও অভিযোগ আছে। বিশেষ করে, কেন পুরো লন্ডনের সব বরোতে একসাথে সাশ্রয়ী বাসস্থানের হার ২০%-এ নামিয়ে আনা হলো, তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি।

এই আইনি চ্যালেঞ্জে যৌথভাবে আবেদনকারী তিনটি কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন নির্বাহী মেয়রগণ, যারা তাঁদের নিজ নিজ বরোতে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৬ সালে লন্ডনের মেয়র ঘোষণা করেছিলেন যে নতুন সব বাড়ির অর্ধেকের বেশি সাশ্রয়ী মূল্যের (এফোর্ডেবল হোম) হতে হবে। কিন্তু এখন সেই কোটা ৩৫% থেকে আরও কমিয়ে ২০% করার পরিকল্পনা লন্ডনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষসমূহ, এমপি এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফেডারেশন ও শেল্টারের মতো আবাসন সংস্থাগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। লন্ডনে সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকা ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং দশ লাখের বেশি লন্ডনবাসী অতিভীড়পূর্ণ (ওভারক্রাউডিং) বা পোকামাকড়, স্যাঁতসেঁতে ও ছাঁচের মতো অনুপযুক্ত পরিবেশে বসবাস করছেন। লন্ডন কাউন্সিলের অনুমান অনুযায়ী, মোট ১,৮৩,০০০ লন্ডনবাসী (অর্থাৎ শহরের প্রতি ৫০ জন বাসিন্দার মধ্যে একজন) গৃহহীন।

৯০,০০০ শিশু গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আবাসনে বাস করছে, যা লন্ডনের প্রতি ২১ জন শিশুর মধ্যে ১ জন - অর্থাৎ লন্ডনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে কমপক্ষে একজন গৃহহীন শিশু রয়েছে। আবাসন খরচ লন্ডনে শিশু দারিদ্র্যের মূল কারণ। লন্ডনে আবাসন খরচ বাদ দিলে দারিদ্রের হার ১৫% থাকলেও, খরচ অন্তর্ভুক্ত করলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশে। ইতিমধ্যেই লন্ডন স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত সংকটের মুখোমুখি, কারণ পরিবারগুলি শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমছে, ফলে শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে যাচ্ছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেছেন, “সত্যিকারের এফোর্ডেবল হোমস্ বা সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়িঘরের প্রয়োজনীয়তা যখন আগের চেয়ে অনেক বেশি, তখন সেই আবাসনের কোটা কমানো একটি বড় ধরনের অন্যায়। আমাদের শহর দিন দিন সাধারণ লন্ডনবাসীর বসবাস, কাজ করা ও পরিবার গড়ার জায়গা হওয়ার বদলে অতি ধনী মানুষের বিনিয়োগের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

“সিটি হল (লন্ডন মেয়রের কার্যালয়) দাবি করছে, এই নীতি নির্মাণ সংস্থাগুলোকে দ্রুত বাড়ি তৈরি করতে উৎসাহিত করবে। কিন্তু কার জন্য সেই বাড়ি? সাধারণ লন্ডনবাসী যদি তা কেনার বা ভাড়া নেয়ার সামর্থ্য না রাখে, তাহলে সেসব বাড়ি খালি পড়ে থাকবে। বাস্তবে, বাড়ি নির্মাণের গতি বাড়ানোর বদলে এই নীতিই তা ধীর করে দিচ্ছে। কিছু ডেভেলপার ইতোমধ্যেই তাদের প্রকল্প পিছিয়ে দিচ্ছে, যতক্ষণ না সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ২০%-এ নামানো হচ্ছে।”

মেয়র লুৎফুর রহমান আরও বলেন, “লন্ডন ক্রমেই দুই ভাগে বিভক্ত একটি শহরে পরিণত হচ্ছে। একদিকে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিনে খালি ফেলে রাখছে, আর অন্যদিকে পরিবারগুলো বছরের পর বছর হাউজিংয়ের অপেক্ষার তালিকায় (ওয়েটিং লিস্ট) পড়ে আছে।

“আমাদের শহরে প্রতি ২০ জন শিশুর মধ্যে ১ জন গৃহহীন, আর এক মিলিয়নেরও বেশি লন্ডনবাসী ওভারক্রাউডিং বা অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস করছে অথবা স্যাঁতসেঁতে, ছাঁচ ও পোকামাকড়ের মতো মানবিক আবাসনহীন পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “সাতটি কাউন্সিল এই আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে - এটাই প্রমাণ করে যে এই নীতি পুরো লন্ডনজুড়ে কত বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা লন্ডনের মেয়র এবং গ্রেটার লন্ডন অথরিটির সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত, কিন্তু হাজার হাজার লন্ডনবাসীকে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা থেকে উৎখাত করে দারিদ্র্য ও গৃহহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার এই পরিস্থিতিতে আমরা নীরব থাকতে পারি না।”

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান মে মাসের শুরুতে লন্ডনের মেয়রকে চিঠি লিখে প্রস্তাবিত আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানান। পরে হ্যাকনির মেয়র ও লুইশামের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা যৌথভাবে লন্ডনের মেয়রের “সময়-সীমাবদ্ধ পথ” (টাইম লিমিটেড রুট - টিএলআর) নামক “জরুরি” ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিচারিক পর্যালোচনার (জুডিশিয়াল রিভিউ) আবেদন করেন। এই ব্যবস্থার ফলে লন্ডনে নতুন নির্মাণ প্রকল্পে সাশ্রয়ী আবাসনের কোটা ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করা হয়েছে। এখন এই মামলা হাইকোর্টে দায়ের করা হয়েছে এবং ল্যাম্বেথ, সাউথওয়ার্ক, ওয়ালথাম ফরেস্ট ও হ্যারিঙ্গি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই চ্যালেঞ্জকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।

হ্যাকনি’র নির্বাহী মেয়র জো গারবেট বলেন, “হ্যাকনির মেয়র হিসেবে আমার লক্ষ্য খুবই স্পষ্টঃ এমন একটি হ্যাকনি গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের কমিউনিটির লোকজন বসবাস করার সামর্থ্য রাখেন। কিন্তু যখন ৪০% বাসিন্দা দারিদে্র্যর মধ্যে বসবাস করছে এবং স্থানীয় পরিবারগুলো সোশ্যাল হাউজিং পাওয়ার জন্য সবচেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছে, তখন আমাদের জরুরি ভিত্তিতে আরও এফোর্ডেবল সোশ্যাল হোমস অর্থাৎ সামর্থাধীন সামাজিক আবাসন দরকার। 

“এটা নিশ্চিত করতে হলে ডেভেলপারদের অবশ্যই সত্যিকারের সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করতে হবে, এবং যারা তা করবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু এর বদলে আমরা দেখছি মেয়র অব লন্ডন ঠিক উল্টো কাজ করছেন - টার্গেট বা লক্ষ্য কমিয়ে দিচ্ছেন, হ্যাকনি বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছেন, এবং ডেভেলপারদের দায়মুক্তি দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “লন্ডন মেয়রের চারপাশে এখন আর এমন কোন কাউন্সিল নেই যারা যেকোনো ডেভেলপার-প্রভাবিত সিদ্ধান্তে সায় দেবে। হ্যাকনিতে এখন এমন একজন মেয়র আছেন, যিনি সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য দৃঢ়ভাবে লড়বেন।”

লুইশামের নির্বাহী মেয়র লিয়াম শ্রীভাস্তভ বলেন, “লন্ডন এখন আবাসন সংকটের এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, এবং বেসরকারি ডেভেলপারদেরও এই শহরকে সহায়তা করার দায়িত্ব আছে। হাজার হাজার মানুষ যখন কাউন্সিলের হাউজিং অপেক্ষার তালিকায় রয়েছে, তখন তাদের (ডেভেলপারদের) মুনাফা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে দেওয়া একেবারেই ভুল হবে।

তিনি বলেন, “ডেভেলপারদের যতটা বেশি সম্ভব এফোর্ডেবল হোমস (সাশ্রয়ী ঘর) নির্মাণ করা উচিত; তাদের কম নির্মাণের সুযোগ দিলে পুরো শহর জুড়ে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ লন্ডনবাসীদের বাইরে ঠেলে দেবে।

“আমরা বুঝি যে মেয়র অব লন্ডন একটি স্থবির হাউজিং মার্কেট এবং ভঙ্গুর ডেভেলপার-নির্ভর মডেলের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কিন্তু তিনি এই পরিবর্তনগুলোর পক্ষে কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেননি, যা নিঃসন্দেহে লন্ডনে নির্মিত সাশ্রয়ী ঘরের সংখ্যা কমিয়ে দেবে।

তিনি আরও বলেন, “লুইশামে আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই, বরং আমরা দায়িত্বশীল ডেভেলপারদের সঙ্গে কাজ করতে চাই, যারা আমাদের কমিউনিটির প্রতি সম্মান দেখায় এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এটি করতে হলে আমাদের পরিকল্পনা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এটি আমাদের কমিউনিটির জন্য প্রয়োজনীয় আরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন কম নয়, বরং আরও বেশি করে সরবরাহে সহায়তা করে।”

কমিউনিটি এর আরও খবর